রামুতে স্বর্গপুরী উৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন শুক্রবার

Ramu-Sawrghopuri-Pic.jpg

নীতিশ বড়ুয়া, রামু

কক্সবাজারের রামু উপজেলার উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারে বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় ১৯ এপ্রিল, শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে স্বর্গপূরী উৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন। এ উপলক্ষে উদযাপন পরিষদ দিন ব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শুক্রবার ভোরে প্রভাত ফেরিসহকারে বুদ্ধ পুজা, সকালে অষ্টপরিস্কারসহ মহাসংঘদান, মহতী ধর্মসভা, প্রয়াত প্রজ্ঞামিত্র মহাথের’র প্রতিবিম্ব উদ্বোধন ও উৎসর্গ, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, অতিথি ভোজন, দুপুরে স্বর্গপুরী উদ্বোধন, বিকালে স্বর্গপূরী মেলা, ধর্মালোচনা সভা, সন্ধ্যায় স্বর্গপূরী উৎসর্গ ও প্রয়াত ধর্মগুরু প্রজ্ঞামিত্র মহাথের’র নির্বাণ সুখ কামনা ও বাংলাদেশসহ বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা। রাতে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

স্বর্গপূরী উৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা, প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের অধ্যক্ষ সারমিত্র মহাথের জানান- স্বর্গপুরী উৎসব এটি কালে সংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ অংশে পরিণত হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষকে মূলত জীবদ্দশায় মানুষ যে কর্ম করে সেই কর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন কুলে তার জন্মান্তর ঘটতে পারে এমন ধারণা দেওয়া হয়। সংসারে মানুষ জন্ম-মৃত্যুর গোলকধাধাঁয় পড়ে ভবচক্রে ঘুরতে ঘুরতে কখনো স্বর্গও লাভ করতে পারে। কিন্তু সেখান থেকেও নির্দিষ্ট একটা সময়ের পরে তাকে চ্যুত হতে হয়। নিজ নিজ কর্মগুণে বা কর্মদোষে মানুষ বিভিন্ন কুলে জন্ম গ্রহণ করছে এমন বৌদ্ধিক ধারণা থেকেই বিগত ৩৪ বছর পূর্বে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু প্রজ্ঞামিত্র মহাথের উক্ত স্বর্গপুরী উৎসবের সূচনা করে ছিলেন। সে থেকে আজ পর্যন্ত বাংলা নববর্ষে বৈশাখের প্রথম সপ্তাহের শুক্রবার এ স্বর্গপূরী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উৎসবে বৌদ্ধদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহন স্বর্গপূরী উৎসব মহামিলন মেলায় পরিনত হয়।

স্বর্গপূরী উৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তা, কারুশিল্পী প্রবীন বড়–য়া জানান- উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা বন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞামিত্র মহাথের ২০০৭ সালে প্রয়ানের পর তাঁর প্রধান শিষ্য বিহারের বর্তমান অধ্যক্ষ সারমিত্র মহাথের এই উৎসবের ধারা ধরে রাখেন। এ বছরও ১৯ এপ্রিল শুক্রবার মহাসমারোহে স্বর্গপুরী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেহেতু কারুকার্জ খচিত শৈল্পিক স্বর্গপুরী নির্মাণ করতে সময় লাগে তাই গত একমাস আগে থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। স্বর্গপুরী নির্মাণ কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত বলে তিনি জানান।

স্বর্গপূরী উৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তা প্রদীপ বড়–য়া ও সিপন বড়–য়া জানান দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সভাপতির আসন অলংকৃত করবেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভুষিত, বাংলাদেশের বৌদ্ধদের মান্যবর উপ-সংঘরাজ, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহারের অধ্যক্ষ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের। অনুষ্ঠানে জেলা উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রামন উপস্থিত থাকবেন।

স্বর্গপূরী উৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলনকে স¤প্রীতির মিলন মেলায় পরিনত করতে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের অংশ গ্রহন ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বর্গপূরী উৎসব উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, এ উৎসবে বিভিন্ন বৌদ্ধপল্লী থেকে দলীয় ভাবে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে নেচে গেয়ে বৌদ্ধ কীর্তন সহকারে স্বর্গপুরী উৎসবের মেলায় অংশ নেয়। বিগত বছরের ন্যায় এবছরও হাজার হাজার পুণ্যার্থীর অংশ গ্রহনে স্বর্গপূরী উৎসব স¤প্রীতির মিলন মেলায় পরিনত এমন প্রত্যাশা উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামবাসি ও স্বর্গপূরী উৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন উদযাপন পরিষদের।