৭ই মার্চ ভাষণের স্থাপত্যশৈলী ” বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন

received_319189691988821.jpeg

 

আমাদের অর্জন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উপলব্ধি ও সংগ্রামী ইতিহাস জানানোর জন্য বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ঘোষণার অর্জনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত শৈল্পিক স্থাপত্য “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন”।
স্বাধীনতা ঘোষনার পটভূমি হিসেবে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চ ভাষণে তিনি যে সকল সংখ্যা উল্লেখ করেছেন।
যেমন : (২৩ (বছর) ১৯৫২’ ১৯৫৪’ ১৯৫৮’ ১৯৬৬’১৯৬৯’ ১৯৭১ (৭ অক্ষরঃ ই মার্চ) ৬ (দফা) উক্ত ঐতিহাসিক সুনির্দিষ্ট গাণিতিক সংখ্যা (number) সমুহকে সমষ্টিগত সংখ্যা প্রতীক(numeral) আকারে স্থাপত্যশৈলী দিয়ে গাণিতিক সংখ্যাপ্রতীক এর স্থাপত্যকলা দিয়ে চিত্রলিপি তৈরি করা হয়েছে দেশের প্রথম “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শনে”।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাষ্টি মফিদুল হক এর নিকট থেকে ইউনেস্কো প্রদত্ত ইরিনা বোকোভা স্বাক্ষরিত সনদপত্র টি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন এ সংরক্ষণের জন্য গ্রহন করছেন সাইফুদ্দিন শিমুল।

একিভাবে ” ৭ই মার্চ ১৯৭১ ” একটি ঐতিহাসিক বাক্য যেখানে গাণিতিক সংখ্যপ্রতীক (৭) ও অক্ষরপ্রতীক (ই মার্চ) ও সমষ্টিগত গাণিতিক বাক্য টি স্থাপনার গায়ে চিত্রলিপি আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শনে।

বাঙ্গালী জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের ঐতিহাসিক ভাষণ আন্তর্জাতিক ভাবে “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ” হিসেবে ইউনেস্কো কতৃক “ওয়াল্ড হেরিটেজ রেজিস্টার” এ লিপিবদ্ধ হওয়ার দিনের “প্রমাণ, উদাহরণ বা নিশান’ হলো এই স্থাপত্য “নিদর্শন” (symbol) যেখানে গাণিতিক সংখ্যা চিত্রলিপি আকারে সংযুক্ত হওয়ায় আমরা এটাকে গাণিতিক symbol এর একটি চিত্রলিপি (ideograph) বলতে পরি।

অপরদিকে বঙ্গবন্ধু র রাজনীতিগত পাণ্ডিত্যের নিদর্শন বা প্রমাণ হিসেবে এই স্থাপনার নামকরণে নিদর্শন শব্দটি সংযুক্ত করে “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন” নামকরণ করে স্থাপন করা হয়েছে।

যে শিল্পকর্ম এই স্থাপনার অনন্য বৈশিষ্ট্য তা হলোঃ
৭ ই মার্চ ভাষণ হলো মূলত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় Epic যেখানে তিনি সমস্ত রাজনীতির জীবনের পরিপূর্ণ ideology প্রয়োগ করেছেন একটি স্বাধীন জাতিসত্তা ও জাতিরাষ্ট্রের প্রয়োজনে। যাকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের পরিভাষায় Total politician বলা হয়।

বাঙ্গালী জাতিরপিতার ideology চিন্তা চেতনার শব্দ সমুহ গাণিতিক সংখ্যাপ্রতীক (Number) ও অক্ষরপ্রতীক (Numeral) এর ব্যবহার করে চিত্রলিপি (ideograph) তৈরিকরে জাতীয় চেতনার আদর্শ বিকাশ করার একটি অনন্য ব্যবস্থা হলো “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন”।

মুলত ৭ই মার্চ ভাষণের পটভূমি হিসেবে মনে করা হয় ৭০ এর নির্বাচন ও নৌকা প্রতিকের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। কালজয়ী ভাষণের পটভূমি নৌকা প্রতীক এই স্থাপনার পটভূমি হিসেবে স্থাপনপূর্বক এটি আরো নান্দনিকতা সমৃদ্ধ হয়েছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রথম কারাবন্দী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বাঙ্গালি জাতির প্রথম বিজয় বাংলা ভাষার রক্তাক্ত বর্ণমালা “অ” অক্ষরটি স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্ব বহন করছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো ঘোষিত দিন ২১ (number) ফেব্রুয়ারী
বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন রক্তাক্ত সেই দিনের স্মৃতি চিহ্নের সন্নিবেশ করা।

মুলতঃ বাঙ্গালী জাতিরপিতার ideology চিন্তা চেতনার শব্দ সমুহ গাণিতিক সংখ্যাপ্রতীক (Number) ও অক্ষরপ্রতীক (Numeral) এর ব্যবহার করে চিত্রলিপি (ideograph) তৈরিকরে জাতীয় চেতনার আদর্শ ও সমর্থন বিকাশের একটি অনন্য ব্যবস্থা (political ideograph) হলো “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন”।
আমাদের দুটি আন্তর্জাতিক অর্জন এর সমষ্টিগত চিত্রলিপি হলো “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন”।
(UNESCO)
১)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা (অ – ২১)
international mother language day
২)
৭ ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ
বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য
(inclusion in the Memory of the World Register) world documentary heritage.

ইউনেস্কো কতৃপক্ষের যুগান্তকারী দুইটি ঘোষনার উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বা নিদর্শন হিসেবে এই
“বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন” স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জাতীয় রাজনৈতিক নেতা বা সংগঠনের জন্য সমর্থন বিকাশের জন্য ideograph একটি চলমান জনপ্রিয় বিদ্যা।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের বাক্যের ক্রমানুসারে
• ‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়,
বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়
বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।
.কি অন্যায় করেছিলাম নির্বাচনের পরে
বাংলার মানুষ সম্পূর্ন ভাবে আমাকে
আওয়ামীলীগ কে ভোট দেন।
• ‘বাংলার ইতিহাস—এ দেশের মানুষের বুকের
রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস’
.২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস।
.২৩ বৎসরের ইতিহাস, মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস।’
. এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিক,
রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে
আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়।

ভাষণে বঙ্গবন্ধু “বাংলা”র ইতিহাসের কথা বলেছেন,
“বাংলা” ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ শুরু হয় ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজুদ্দৌলার করুন পরাজয়ের মধ্যদিয়ে বৃটিশ উপনিবেশিক শাষণের শুরু হয়।
পলাশীর আম্রকাননের ২৩ জুন,পাকিস্তানি শাষনেরঃ ২৩ বছর ও আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠার তারিখঃ ২৩ জুন
এবং ভাষণে ‘২৩ বছরের ইতিহাস’ কথাটি দুবার এসেছে এই তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যাটি।
মূল বক্তব্যে যাওয়ার আগে এই বাক্যেটি তিনি বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বানটি মানুষের উপলব্ধিতে যথাযথ অভিঘাত সৃষ্টির জন্য অভিজ্ঞতা পটভূমি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

পাকিস্তানী অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও জাতি-নিপীড়নের নিগড় থেকে বাঙালীর জাতীয় মুক্তির প্রয়োজনীয়তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টিপাত করিয়েছেন।

উক্ত আবেগ তাড়িত রক্তাত্ত ২৩ সংখ্যাটি দিক বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এক অনন্য সাধারণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত এবং মানবজাতির অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে অগ্রগামী করেছেন।

কেননা ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ জাতিসংঘের বিশ্ব মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে ঔপনিবেশবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, জাতি-নিপীড়ন ইত্যাদি থেকে পৃথিবীর সর্বত্র জাতি-জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের নীত

কেননা ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ জাতিসংঘের বিশ্ব মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে ঔপনিবেশবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, জাতি-নিপীড়ন ইত্যাদি থেকে পৃথিবীর সর্বত্র জাতি-জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের নীতি গৃহীত ও স্বীকৃত হয়।

তাই বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন এর স্থাপত্যের প্রবেশের প্রথম সিড়ি ২৩ সংখ্যা দিয়ে আঁকা, বাঙ্গালী জাতীর মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তথা জাতীয় চেতনার বিকাশে এই ideographic স্থাপত্যকলা “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন” বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থাপত্য শিল্পী সাইফুদ্দিন শিমুল।

দীর্ঘ উপনিবেশিক শাসন-শোষনের যাতাকলে পিষ্ট বাঙ্গালী জাতির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে ৭ ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য স্বীকৃত ভাষণে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জিবীত হয়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা।

সেই থেকে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব আমাদের চেতনার অংশ বিশেষ। শ্রেষ্ঠ অলিখিত ভাষণ অন্তভূক্তির অন্যতম কারন চেতনাদায়ক।
তাই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে হলো জাতির পিতার আদর্শ,
এই আদর্শিক চেতনার বিকাশ ও সমুন্নত রাখতেই বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে সংরক্ষণের অংশ হিসেবে
৭ই মার্চ ঐ ভাষণ টি সম্পুর্ন পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হয়েছে।
শুরুতে ব্যক্তি উদ্যোগে উদ্যোক্তা হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিদর্শন টি গত ৩০ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে পরিপূর্ণ নিদর্শন বা মিউজিয়াম হিসেবে শিশুদের হাতে কলমে জাতির গৌরবের অতীত ইতিহাস ও সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আন্তর্জাতিক অর্জন সমুহ উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয় মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন সমুহে সমৃদ্ধ করে জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এই নিদর্শন এর পৃষ্ঠপোষকতা প্রধান করছেন।নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলেই বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শনে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন সমুহ সংগ্রহ করে পরিপূর্ণ মিউজিয়াম হিসেবে অবদান রাখবে।

সাম্প্রতিক সময়ে উদ্যোক্তা ও নির্মাতা শিল্পী সাইফুদ্দিন শিমুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
৭ ই মার্চ এই ভাষণ কে world documentary heritage হিসেবে আন্তর্জাতিক শিকৃতি আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশের সরকার কতৃক
UNESCO সম্মেলনে যোগদানকারী প্রতিনিধি ও
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁও ঢাকা কতৃপক্ষ ট্রাষ্টি মফিদুল হক কতৃক ইরিনা বোকোভা স্বাক্ষরিত সনদপত্র টি উক্ত নিদর্শনে স্থাপনের জন্য হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় সামাজিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করেন ইতিহাস-ঐতিহ্য-মনস্ক মানব সম্পদ গড়তে এই নিদর্শন টি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
লেখকঃ
(সাইফুদ্দিন শিমুল)
উদ্যোক্তা ও নির্মাতা শিল্পী

নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবানঃ