দেশ-বিদেশের গবেষক,শিক্ষার্থী আর সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলা চলছে

ঝিনাইদহে ৪র্থআন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন শুরু
JHENAIDAH-International-FOLKLORE-1.jpg

রামিম হাসান,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

বিশ্বপরিক্রমায় ক্রমাগত নিত্য নতুন সংস্কৃতির উদ্ভব ও ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন বিজ্ঞানে আবিষ্কারের আলোতে আমরা দেশীয় লোকশিল্পকলা ভুলতে বসেছি। লোকশিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় জানতে হলে ফোকলোরের গুরুত্ব কে ধারণ করে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ২দিনব্যাপী ৪র্থআন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন । শেকড়ের নিজস্ব জ্ঞানান্ধতা ঘুচান আর বিশ্ববাসীর মধ্যে লোকশিল্প ছড়িয়ে দিতে ভারত, আমেরিকা, সোমালিয়া, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ সহ ৫টি দেশের অসংখ্য গবেষক, সাংকৃতিক দল আর প্রতিনিধিদের নিয়ে ঝিনাইদহে আজ থেকে বসেছে এই ফোকলোর মিলনমেলা ।

দুই দিনব্যাপী চতুর্থ আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন শহরের জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্কের সম্মেলন কক্ষে সম্মেলন শুরু হয়েছে। সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় । সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি।

একটি জাতির সার্বিক জীবনপ্রবণতা ও সাংস্কৃতিক গঠন বহুলাংশে নির্ভর করে তার লোকজ জীবনধারার ওপর বিশেষ করে তার মৌলিক বা লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা আবহমান লোক সভ্যতার নানান নিয়ামকের ওপর। ফোকলোর একটি জাতির শেকড় অনুসন্ধানী একটি বিদ্যাশৃঙ্খলা যা তার সাংস্কৃতিক বা জাতিগত পরিচয়কে শনাক্ত করতে পারে খুব সহজে। সেকথায় বলছিলেন কলকাতার লোকসংগীত শিল্পী ও সঞ্চালিকা ইন্দ্রানী সেন সরকার, কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের এক শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের লোক সংস্কৃতি গবেষক সহ তরুন প্রজন্মের একদল একদল শিক্ষার্থী । তারা বললেন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন একটি সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম।

সম্মেলনের প্রধান আলোচক ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর এমিরিটাস বরুন কুমার চক্রবর্তী জানান, জনজাতির অনেক অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তির পথে, যেমন বড়মাছ খায় ছোটমাছ কে, এমন চললে ভবিষ্যতে কিন্তু তাদের সংস্কৃতি থাকবে না বলে আশংকা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর এমিরিটাস বরুণ কুমার চত্রবর্তীর । তবে তিনি ঝিনাইদহের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন সম্মেলনের প্রশংসা করে বললেন পাগলা কানাই, লালন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মীর মোশাররফ সহ অসংখ্য মনিষী আর গুণীদের পদাচারনায় ঝিনাইদহের গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে । ফোকলোর চর্চায় বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক এগিয়ে বলেও জানান তিনি ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আন্তন হাবিব বলেন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যচর্চার সাথে বিশ্বের নানা অঞ্চলের ফোকলোর চর্চাকে অন্বিত করতে পারলে আমরা নানাভাবে সমৃদ্ধ হতে পারতাম।
আর্ন্তজাতিক এই সম্মেলনে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও সম্মেলনের সভাপতি সরোজ কুমার নাথ জানান, অশক্ষিত নিরক্ষর বা লেখাপড়া যারা শিখতে পারেনি সেটাই লোকসাহিত্য । তবে আমাদের লোক সাহিত্যেও মুল স্প্রিট আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে । লোকসংস্কৃতি আমাদের সাহিত্যকে পাখির মায়ের মত আকড়ে আছে। বাংলার লোকসংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে তুলের ধরার জন্যই এ আয়োজন এবং আমরা স্বার্তক বলে জানান ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র ও আয়োজকদের অন্যতম সাইদুল করিম মিন্টু ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর গবেষণা কেন্দ্র, ভারতের লৌকিক কলকাতা, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্ট্যাডিজ বিভাগ, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও ঝিনাইদহ পৌরসভার যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ভারত, শ্রীলংকা, যুক্তরাষ্ট ও সোমালিয়ার বিভিন্ন ফোকলোর গবেষকগণ অংশ নিচ্ছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ইসলামীবিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ সম্মেলন। ২ দিন ব্যাপী এ কর্মসূচিতে শুরু হয়েছে লোকআড্ডা, সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।