ঝিনাইদহে ভুট্টা আবাদে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

photo-03.jpg
রামিম হাসান,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহে ভ’ট্টা ফসলে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনে। জেলার আগাম জাতের ভুট্টা কাটাতে শুরু করেছে কৃষকরা। ভুট্টা আবাদে খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় দিনদিন আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভুট্টা মুলত মেক্সিকান ফসল। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে কম্পোজিট জাতের বীজ দিয়ে আবাদ শুরু হয়। ২০০৩-০৪ সালে ভুট্টা আবাদ কৃষকদের আকর্ষণ করতে সম্ভব হয়। এরপর কম খরচে বেশি পরিমান লাভের কারনে কৃষকরা ভুট্টা আবাদের দিকে ঝুকে পড়েছে।
ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৭’হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছে চাষিরা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩’হাজার ৪৯৫ হেক্টর বেশি। যেখানে সদর উপজেলায় ৩’হাজার ৬২০ হেক্টর, কালীগজ্ঞে ১’হাজার ৪৫০ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৩’হাজার ২৫০ হেক্টর, মহেশপুরে ৭’হাজার ৩৫০ হেক্টর, শৈলকুপায় ৫০’হেক্টর এবং হরিনাকুন্ডু উপজেলায় ১’হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। আর এ পরিমান আবাদ থেকে প্রায় ১’লাখ ৬৩’ হাজার ২৯৭ মেট্টিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সদর উপজেলার মধুহাটি ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মেসবাহ আহমেদ বলেন, ভুট্টার বীজ জমিতে সাধারনত আক্টোবর মাসে বপন করা হয়। আর মার্চ এপ্রিল মাসে কর্তন করা যায়। কৃষকদের আগ্রহ, কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে বীজ বোপন, অন্ত:পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগের কারনে কম খরচে বেশি লাভ হয়। তাছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে প্রতি বছরই প্রায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হচ্ছে।
ভুট্টা আবাদ সম্পর্কে কথা হয় সদর উপজেলার বাজার গোপালপুরের ভুট্টা চাষি মানোয়ার হোসেনের সাথে তিনি জানান, এবার চার বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১২’হাজার টাকা। বিক্রিতে ঝামেলা কম, কাঁচা ও শুকনা উভয়ই বিক্রি করা যায়। খরচের তুলনায় লাভ বেশির কারনে ভুট্টা আবাদে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি জানান।
ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের উপপরিচালক জিএম আব্দুর রউফ জানান, ভুট্টা আবাদ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এই আবাদে দিনদিন কৃষকদেও আগ্রহ বাড়ছে। তবে সমস্যা, ভুট্টার বীজ শতভাগ হাইব্রিড এবং বিদেশী প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল। যদি দেশীয় কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বীজে দিতে পারত তাহলে ভাল হত।