রান্নায় এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে ক্যানসার

food-1.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আজকাল বেশির ভাগ বাড়িতেই আগেভাগে রান্না করে রাখা হয়। এবং পরে তা গরম করে খাওয়া হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ, পরিবারের সবাই চোখ বুজে খান মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবার। রোজ বেড়ে চলা এই অভ্যেসের মধ্যেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন চিকিৎসকরা।‌

একবার রান্না করা খাওয়ার বারংবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা কতটা স্বাস্থ্যকর? ‘জার্নাল অব এগ্রিকালচারকাল ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রি’-র একটি প্রতিবেদনে একদল গবেষক নিজেদের পরীক্ষার বিস্তারিত প্রমাণ পেশ করে দেখিয়েছেন, মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবারে ভিটামিন বি১২ ক্রমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এক এক বার খাবার গরম করলে খাবারের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভিটামিন বি১২ নষ্ট হয়। দুধ ও মাংস জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১২ থাকে। কাজেই এই ধরনের খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে খাবারের খাদ্যগুণ নষ্ট হয় ব্যাপকভাবে।

আরও ভয়ের কথা শোনাচ্ছেন শহরের চিকিৎসক সায়ন্তন মিত্র। তার মতে, ‘মাইক্রোওয়েভিং-এর পরে খাবারে কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি হয়। যেমন বেঞ্জিন, জাইলিন ইত্যাদি। এগুলো ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে ডেকে আনে। এমনকি, প্লাস্টিকের খাবারে খাবার গরম করলেও সেখান থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়। এগুলো সবই কার্সিনোজেনিক অর্থাৎ ক্যানসারের কারণ। কাজেই খাবার বারবার মাইক্রোওয়েভে গরম না করাই ভাল।’

প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদস্পন্দনের গতিরও তারতম্য ঘটে মাইক্রোওয়েভ থেকে নির্গত রেডিয়েশনের কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম, দুধ, মাংস, মাশরুম জাতীয় খাবার গরম করে খাওয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর।

কিন্তু জীবনে ব্যস্ততা তো থাকবেই। প্রতি বেলায় খাবার তৈরি করার কথা ভাবাও অসম্ভব। তাহলে কি ক্যনসারকেই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে হাতঘড়ির সঙ্গে দৌঁড়ে হেরে গিয়ে? হাল না ছেড়ে, অভ্যাসে বরং সামান্য বদল আনার চেষ্টা করা যাক না!

১. প্রতিদিনের রান্না প্রতিদিন করুন।

২. খাবার ফ্রিজ থেকে বের করে তাড়াহুড়া করে মাইক্রোওয়েভে না দিয়ে স্বাভাবিক উষ্ণতায় নিয়ে আসুন।

৩. পানি গরম করার সময় গ্যস ওভেন ব্যবহার করুন।

৪. টোস্টার ওভেনটিকে কাজে লাগাতে পারেন।

৫. মাইক্রোওয়েভ প্রয়োজনীয় কিন্তু অপরিহার্য নয়, এই সত্য না বুঝলে বিপদ কিন্তু পিছু ছাড়বে না।

সূত্র: আনন্দবাজার