অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের প্রায় ৪শতাধিক হোটেল

base_1554239355-aaaaaa.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পর্যটন নগরী হওয়ায় কক্সবাজারের হোটেলগুলোয় বছরজুড়ে প্রায় ২০ লাখ পর্যটক অবস্থান করে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম এবং সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা সরকারি ছুটির সময় কোনো হোটেলেই কক্ষ ফাঁকা থাকে না। অথচ এত বিপুলসংখ্যক পর্যটকের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই কক্সবাজারের হোটেল মালিকদের।
পর্যটন রাজধানী  কক্সবাজারে বেড়াতে আসা  দেশী-বিদেশী পর্যটকদের থাকার জন্য গড়ে উঠেছে চার শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট। কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই বছরের পর বছর কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান। মাত্র দুই-একটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও বাকিগুলোতে তাও নেই।ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বারবার তাগাদা দেয়া হলেও হোটেল মালিকরা কোনো তোয়াক্কা করছেন না। এজন্য প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তদারকির অভাবকেই দুষছেন হোটেল মালিকদের কেউ কেউ। তবে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কিছুটা হলেও টনক নড়েছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার দুপুর ১২টায় কলাতলীর বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বেরিয়ে আসে হোটেলটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার নানা ত্রুটি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম শেখ জানান, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলে ফায়ার ফাইটিং ফ্লোর প্ল্যান দেখাতে পারেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। নয়টি করে ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকার নিয়ম থাকলেও আছে মাত্র চারটি করে। এছাড়া হাইড্রেন্ট পয়েন্ট অকেজো এবং এলপি গ্যাস সিলিন্ডার অরক্ষিত অবস্থায় আছে। ওয়াটার রিজার্ভারে পর্যাপ্ত পানি নেই, নেই ফ্লোর মার্কিং। জরুরি প্রস্থানের পথও সরু। এসব কারণে এ হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ২০ এপ্রিলের মধ্যে এসব ত্রুটি সংশোধন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।

বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলের পর সি ওয়ার্ল্ড রিসোর্টে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানেও পাওয়া যায় ১০টি ত্রুটি। হোটেলটিতে নেই কোনো ফায়ার ফাইটিং ফ্লোর প্ল্যান। হাইড্রেন্ট পয়েন্টও নেই। হোজরিল, ফায়ার ফাইটিং প্রশিক্ষণ, ফায়ার এক্সটিংগুইশারও নেই। ইলেকট্রিক ওয়্যারিংয়ের জায়গাগুলো অরক্ষিত, ওয়াটার রিজার্ভার দুটির একটিতে পানি নেই। স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিংকলারও নেই। হোটেলটিতে নেই জরুরি বের হওয়ার পথ ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের ছাড়পত্র। এ রিসোর্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানের বিষয়ে সি ওয়ার্ল্ড রিসোর্টের নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু আমাদের রিসোর্ট নয়, সব হোটেলেরই অবস্থা উল্টাপাল্টা। কক্সবাজারের কোনো হোটেলই এসব মেনে চলে না। এর জন্য দায়ী প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।’

সি ওয়ার্ল্ড রিসোর্টের পর উইন্ডি টেরেজ হোটেলে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানেও পাওয়া যায় বেশকিছু ত্রুটি। এজন্য এ প্রতিষ্ঠানকেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ২০ এপ্রিলের মধ্যে ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এসব অভিযানে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. শাহাদৎ হোসেনও ছিলেন। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো তোয়াক্কা করে না। তাদের বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযানে নামতে হয়েছে। এবার যতটুকু পারা যায় হোটেলগুলোকে আইনের আওতায় এনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।