কক্সবাজারে প্রথম সদর উপজেলা নির্বাচন দিয়ে ইভিএম ভোট শুরু

FB_IMG_1554003101786.jpg

ইমাম খাইর,
বহুল প্রতীক্ষিত ও আলোচিত কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ রবিবার (৩১ মার্চ) সকাল ৮ টায় শুরু হয়েছে।
সদরের ১ নম্বর ইউনিয়ন ইসলামপুরের নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ঘড়ির কাঁটা ঠিক সকাল ৮ টায় ইভিএমে ভোট শুরু করা হয়। ভোটের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের এজেন্টদেরকে কন্ট্রোল ইউনিটের প্রিন্টেড কপি দেখিয়ে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা শতভাগ নিশ্চিত করেন। এরপর তাদের সম্মতিতে ভোট নেয়া শুরু হয়।
এই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার এর দায়িত্বে রয়েছেন সিজল কান্তি বড়ুয়া।
এখানে ২টি পুরুষ ও দুইটি মহিলা বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭৯৯ টি। এই কেন্দ্রের ভোটাররা অধিকাংশ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ হলেও ইভিএমে ভোট দেয়ার প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে। সকাল থেকে লাইন ধরে ভোটাররা ভোট দিচ্ছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা হয়নি।
সদরের ১০৮ টি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হচ্ছে। প্রতি ইভিএম ইউনিটে দুইজন করে পুলিশ সদস্য রয়েছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৯০০ পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনীর টিম। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ভোটে অনিয়ম, কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।
সদর উপজেলায় মোট ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌসভার ১০৮ টি কেন্দ্রে ভোট কক্ষ রয়েছে ৫২০ টি। মোট ভোটার সংখ্যা ২৫৬৬৪৪ জন। সেখানে পুরুষ ১৩৫৪৪২ জন এবং মহিলা ভোটার ১২১২০২ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৪ জন। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮টি। এতে ভোট গ্রহণ কক্ষ রয়েছে ৬৪৮টি।
সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শিমুল শর্মা জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকক্ষে ৩টি করে ইভিএম ব্যালট ইউনিট, ৪৬টি কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো ইউনিটে টেকনিক্যাল ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লেস করার জন্য রয়েছে অতিরিক্ত ১০০টি ব্যালট ইউনিট।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রয়েছে।
তারা হলেন- আওয়ামী লীগের (নৌকা) কায়সারুল হক জুয়েল, স্বতন্ত্র সেলিম আকবর (আনারস), নুরুল আবছার (ঘোড়া), জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে অধ্যাপক আতিকুর রহমান ও মটর সাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মোর্শেদ (তারেক বিন মোকতার)।
তবে, আবদুল্লাহ আল মোর্শেদ (তারেক বিন মোকতার) ঘোষণা দিয়েই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। জাপা প্রার্থী অধ্যাপক আতিকুর রহমান ভোটের মাঠে নেই।
শেষ মুর্হর্তে তীব্র লড়াইয়ে রয়েছেন তিনজন।
৮ জন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন।
তারা হলেন- হাসান মুরাদ আনাচ (টিয়াপাখি), কাইয়ুম উদ্দিন (চশমা), কাজী রাশেল আহমেদ নোবেল (গ্যাস সিলিন্ডার), বাবুল কান্তি দে (মাইক), রশিদ মিয়া (বই), আমজাদ হোসেন ছোটন রাজা (টিউবওয়েল), আবদুর রহমান (পালকি) ও মোর্শেদ হোসাইন তানিম (উড়োজাহাজ)।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান হেলেনাজ তাহেরা (প্রজাপতি), হামিদা তাহের (ফুটবল) এবং আয়েশা সিরাজ (পদ্ম ফুল)।