চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দু’পাশ যেন পরিত্যাক্ত গাড়ির গ্যারেজ!

Cox-1-3.jpg
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার সদর উপজেলা গেইট থেকে রামু বাইপাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুপাশে ফেলে রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক পরিত্যাক্ত গাড়ি। মহাসড়কের দুপাশে বছরের পর বছর ধরে এসব নষ্ট গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের রাস্তা চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে এবং সড়কের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয় বলে অভিযোগ করেছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। ইঞ্জিন বিকল দাবি করে ফেলে রাখা অর্ধশতাধিক গাড়ির প্রতিটির দাম ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কয়েকটি গাড়ি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। বেশিরভাগ ব্যবহার অনুপযোগী। গাড়ি রাখার চিত্র দেখলে মনে হয়, মহাসড়কের দুপাশ যেন গ্যারেজ! এ ছাড়া উপজেলা গেইট থেকে পাওয়ার হাউস পর্যন্ত সড়কের দুপাশে গাড়ির গ্যারেজ নিয়ে নৈরাজ্য চলছে।
স্থানীয় শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল্লাহর অভিযোগ, এসব গাড়ি রাস্তার সৌন্দর্য্য নষ্ট করে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চলাচলেও অনেক সমস্যা হয়। তিনি আরোও বলেন, ফুটপাতে চলাচলের সময় এসব গাড়ি থাকায় হাটা-চলায় ব্যাঘাত ঘটে। এতে পর্যটক নগরীর সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আশা করছি কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে।
এছাড়া উপযুক্ত তদারকির অভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দু’পাশে বিভিন্ন এলাকায় দখল আরও বেড়ে গেছে। সদর উপজেলা গেইট থেকে লিংকরোড় পর্যন্ত পুরোনোগুলোর পাশাপাশি নতুন শতাধিক গ্যারেজ তৈরি হয়েছে। এমনকি সড়কের মধ্যেও দিন-রাত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সেখানে যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মিত ফুটপাতে বেশির ভাগ সময়ই যানজট লেগে থাকছে। আগে এই এলাকায় টিন ও বাঁশের বেড়ার কয়েকটি মোটর গ্যারেজসহ অন্যান্য স্থাপনা ছিল।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় অতীতে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালের অংশ থেকে শুরু করে টানা রামু বাইপাস পর্যন্ত পুরোটা অংশে এবং বিপরীত দিকেও গড়ে উঠেছে শতাধিক বিভিন্ন দোকান ও গ্যারেজ। আধা পাকা স্থাপনাও রয়েছে। সামনের খোলা রাস্তায় পরিত্যাক্ত গাড়ি রেখে স্বাধীন ব্যবসা চলছে। গ্যারেজে মেরামতির জন্য আনা গাড়ি জায়গা না পেয়ে রাস্তার ওপরই বিশৃঙ্খলভাবে রাখা হয়েছে। পুরোপুরি অরাজক অবস্থা।
দেখা গেল, গ্যারেজে আসা গাড়ি জায়গা না পেয়ে হোটেল আল সালামের সামনে রাস্তার মাঝখানে রাখা হয়েছে। যার কারনে মহাসড়কে যেসব গাড়ি ও পথচারী যাচ্ছে সেগুলো আটকে আছে। টার্মিনাল থেকে লিংকরোড় রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তা অবরুদ্ধ। বিশেষ করে পর্যটক, স্কুল, মডেল স্কুল, কেজি, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থীসহ সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের চলাচল এই রাস্তায়।
সরকারি জায়গা দখল করে গ্যারেজ তৈরি এবং চলাচলের রাস্তায় গাড়ি রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সবাই প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। বিভিন্ন গ্যারেজের উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের কর্মচারী বলে পরিচয় দেন এবং গ্যারেজের মালিকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সওজের জায়গায় কোনো স্থাপনা ও গাড়ী রাখার নিয়ম নেই। তবে লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।