বস্তাভর্তি ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সেই প্রভোস্টকে অব্যাহতি

ডাকসু ভোট কারচুুপির সাথে জড়িত থাকার দায়ে
DU-Sobnom.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বস্তাভর্তি সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ শবনম জাহানকে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের দিন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল।

একই সঙ্গে তাকে চাকরি থেকে কেন স্থায়ী অব্যাহতি দেয়ার হবে না- এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে কেন অব্যাহতি দেয়া হবে না- এই মর্মে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১১ মার্চ কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই বাক্সভর্তি ভোট দেয়া ব্যালট পেপার পাওয়ার ঘটনায় হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শবনম জাহানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল।

ভোটের দিন কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ব্যালটবাক্স আগে থেকেই জালভোট দিয়ে ভরা হয়েছিল। পরে ব্যালটবাক্স দেখতে চাইলে সেই জালভোট দেয়া ব্যালট পেপার বস্তায় ভরে অন্যত্র সরানোর অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রীরা।

মৈত্রী হলের ছাত্রীরা ভোটকেন্দ্রের সামনে জালভোট দেয়া ব্যালট পেপার নিয়ে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কখনই সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়।

ভোটের দিন সকাল ১০টার দিকে কুয়েত মৈত্রী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ব্যালটে ভোট দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এই হলের প্রভোস্ট ড. শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নতুন প্রভোস্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ড. মাহবুবা নাসরিনকে।’

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করে।