বুনো ওল ও বাঘা তেঁতুল

55711612_2291202971095739_5032667142139412480_n.jpg

 

প্রায় এক মাস আগে প্রথম এসেছিলো, সন্দেহজনক লেগেছিল তাই ছোট মেয়েটার পাসপোর্ট করে দেই নি। অধিকন্তু, মাফ করে দিয়েছিলাম। আবার একমাস পর হাজির। সাথে করে পাতানো মা কে নিয়ে এসেছে। উদ্দেশ্যে – পাসপোর্ট করে ওমরা হজ্জ করবে। কিন্তু এবার আর মাফ নয়, বিদায় করা ও নয়। বাংলাদেশী পাতানো মা আর মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা মেয়েকে তথ্য প্রমাণ সহ ধরতে রীতিমতো গোয়েন্দা বস – ফেলুদা র ভূমিকায় কায়দা কর‍তে হলো। তিন ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে তবেই থলের বিড়াল বের হলো। বোধ করি দালাল ও ফেলুদা র গোয়েন্দা কাহিনী পড়ে নতুবা যে চাল সে চেলেছে তার রহস্য বের করতে আমার ও অবস্থা সারা !

ক) দালাল সার্বক্ষনিক রোহিঙ্গা মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে তার নাম্বার CUSTOMER CARE টাইটেল দিয়ে সেইভ করে দিয়েছে । উদ্দেশ্য, কর্মকর্তা তার মোবাইল কল লিস্ট চেক করে তবে যেন কিছুই বুঝতে না পারেন। কিন্তু, বিধি বাম! তার মোবাইল চেক করে এই অভিনব কৌশল জেনে নিশ্চিত হলাম ভিতরে কোন কাহিনী আছে।

খ) তার ইমো কল লিস্ট যাচাই করে দেখলাম সে রোহিঙ্গাদের সাথে কথোপকথন করে। নিশ্চিত হলাম সে রোহিঙ্গা ভাষা জানে তার মানে তার রোহিঙ্গা হবার সম্ভাবনা আছে, যদিও আমার থেকে সে ভালো বাংলা বলে।

গ) নিজের নাম বাদে সে আর কিছুই লিখতে পারে না, যা বুঝার বুঝে গেলাম।

ঘ)মা আর মেয়েকে আলাদা করে একই প্রশ্ন করলে উত্তর পেলাম ভিন্ন ভিন্ন।

পরপর কতগুলো এই জাতীয় কেইস ধরা পরলে বা সাংবাদিকদের ভেজাল পুর্ণ অনুরোধ না রাখলেই কয়দিন পর স্থানীয় লোকাল পত্রিকায় ” ঠাকুমার ঝুলি” টাইপের প্রতিবেদন দেয়।

শেষমেশ, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট করে উভয়কেই ০৬ মাস করে জেল দেয়া হয়েছে।

আমার প্রশ্ন হলো , স্বদেশী লোকই যদি রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করে তবে আমরা কতজনকে সনাক্ত করবো?

খ) সব সময় তো অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা থাকে না। ভুল তো আমাদের ও হতে পারে তখন কী হবে? তার পর তো পুলিশ রিপোর্ট যাবে। সেখান থেকে কেমন করে পার পাবে??

গ) চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরা ই বা কতটাকার বিনিময়ে জন্মসনদ বা প্রত্যয়ন পত্র দেন? যদি দেবেন ই তবে কেন সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে না? যদি তারা খামখেয়ালি করে যাচাই করে তবে আমরাই বা তাদের কেমন করে বিশ্বাস করি?

গল্পে গল্পে ভোর হয়ে এলো কিন্তু এই ভোরের আলো কি আমাদের মন গহীনের আঁধার দূর করে পারবে কি আলো ঝলমলে করে দিতে? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। আমি আশাবাদী।

জনাব আবু নাঈম মাসুম

সহকারী পরিচালক

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস

কক্সবাজার ।