ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ

Jeh-1.jpg

রামিম হাসান,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িঘওে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছে গ্রামবাসি। ঘটনাটি উপজেলার ১৩নং উমেদপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বুধবার রাত ২টার দিকে। এ সময় দশটি বাড়িতে হামলা, ফসলেরক্ষতি, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ সদস্য আব্দুলহাই, উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার মোশারফ হোসেন, ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস, থানার ওসি আয়ুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যানশামীম হোসেন মোল্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শনকরেন। আনারসমার্কার স্বতন্ত্র বিজয়ীপ্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার মোশারফ হোসেন ও পরাজিতভাইস চেয়ারম্যানপ্রার্থী শামীম হোসেন মোল্যার অভিযোগতাদের ভোট দেওয়ায়হামলার স্বীকার গ্রামবাসি।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলাহচ্ছে এ ঘটনায় যেইজড়িত থাকনা কেন তদন্ত কওে তারবিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অথবা পুলিশের উপস্থিতিতে সুযোগ সন্ধানীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তাদের ধারনা। যেপুলিশ সদস্যেও বিরুদ্ধে গ্রামবাসির অভিযোগ সেইএএসআইআজাদ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকারকওে বলেন, ঘটনার রাতে তার কোন টহলের দায়িত্ব ছিলনা বা ঐ রাতে তিনি কোন অভিযানে জাননি এবং ঊষানামের কোন কনস্টেবল থানায় কর্মরত নাই।

গোবিন্দপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী লাকি খাতুন অভিযোগ করেন, তখন রাত আনুমানিক ২টা। হঠাৎ উচ্চস্বরে দরজা খুলতে বলে। কিছুক্ষন পর দরজা খুলেদিলে এএসআইআজাদের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ঘওে প্রবেশ কওে এবং ঊষানামের একজন নারী কনস্টেবলকে ডাকতে থাকে। ঘরে প্রবেশ করেই তারা বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করতে থাকে। এরপর আলমারিরড্রয়ার ভেঙ্গে ৮০ হাজার টাকা এবং তার মায়ের গলারহার ও কানের দুলছিড়ে নেয়। এরপর তারা রান্না ঘওে প্রবেশ কওে রান্নার সামগ্রী ভাংচুর করে। তারপর পাশের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ ভাবে গ্রামের ১০টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর চালায় পুলিশ। এ সময় গ্রামের আব্দুল্লাহ, মান্না, আলমসহ বেশকয়েকজনকে পুলিশের সাথে তিনি দেখতে পান বলে তিনি জানান।

আব্দুল্লাহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার কওে বলেন, নির্বাচনের দিনরাত থেকেই প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে তারা গ্রাম ছাড়া। এ ঘটনায় সে জড়িতনা।হাফিজুরের স্ত্রী নার্গিস বেগম বলেন তার বাড়ি ঘরেও পুলিশ হামলা চালিয়ে ভাংচুরকরে। গোবিন্দপুরগ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন রাত ২টার দিকে ৩টি গাড়িতে ১৫/১৬ জন পুলিশ সদস্য গোবিন্দপুর গ্রামের শহিদুল মাস্টার, দুল্লভ, ওলিয়ার, কাউছার, হাফিজুর,মহিদুল, হাফিজমাতব্বর, কেতাবউদ্দিন, সমির টাকা পয়সা লুটপাট করে। গ্রামের বাসিন্দা সাবিরন নেছা বলেন আনারসমার্কায় ভোট দেওয়ায় তাদেও বাড়ি ঘওে হামলা চালিয়েছে পুলিশ ও গ্রামের কয়েক ব্যক্তি।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকাজী আয়ুবুর রহমান বলেন, তিনিঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যদি গ্রামবাসি কোন পুলিশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয় তবে তদন্ত কওে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যেই এ ঘটনা ঘটাক তদন্ত কওে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।এএসআইআজাদ শৈলকুপা থানায় কর্মরত থাকলেও ঊষানামের কোন নারী পুলিশ সদস্য শৈলকুপা থানায় কর্মরত নাই বলে তিনি জানান।

ঝিনাইদহের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বা সবলেন, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে তুচ্ছঘটনাকে কেন্দ্র কওে বিভিন্ন ঘটনা দেখা যাচ্ছে শৈলকুপায়। তিনি গোবিন্দপুরের ঘটনা শোনার পরপরই এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে যদি কোনপুলিশ সদস্যেও জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া তিনি বলেন ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে সে যেই হোকনা কেন তার বিরুদ্ধে প্রমান পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃংখলা বাহিনী।