শহরের কলাতলী মোড়ে রাস্তা সম্প্রসারণের দোহাই দিয়ে প্রবাসীর জমি জবরদখলের অপচেষ্টা

Cox-9.jpg

বার্তা পরিবেশক

কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ডলফিন মোড় এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের দোহাই দিয়ে এক প্রবাসীর স্বত্ব দখলীয় জমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে আসাদ নামের এক ঠিকাদার। কোন প্রকার অধিগ্রহণ ছাড়াই পৌর মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য এই চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, কলাতলীর ডলফিন মোড়ের পশ্চিমে সী-নুর কটেজ সংলগ্ন জমিতে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন জমি ও মার্কেটের একটি অংশ জবরদখল করে সেখানে রাস্তা সম্প্রসারণের অপচেষ্ট চালিয়ে আসছেন আসাদ নামের এক ঠিকাদার।

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা, সৌদি আরব প্রবাসী আনোয়ার হোসেন জানান, বিগত ০৬/০৭/২০১০ইং তারিখের ৩৬৪৭ ও ৩৬৪৮ নং রেজি: যুক্ত কবলা মূলে সৃজিত বি,এস ৩০৬৮ নং খতিয়ানে বি,এস ২০০৪৬ নং দাগের ০.০৭০০ একর জমিসহ অপরাপর অনালিশী বি,এস খতিয়ানের জমি নিয়ে মোট ০.২৫০০ একর জমি ও আশপাশের আরও ০.২০০০ একর জমি তিনি খরিদ মূলে মালিক হন। তার জমির দক্ষিণে অবস্থিত জালিয়াত আব্দুল হাকিম, ভূমিদস্যু আবু মোকাররম ও খসরু সিন্ডিকেট তাদের হোটেল-কটেজে যাতায়তের জন্য আনোয়ার হোসেনের নিজস্ব জায়গায় ইতিপূর্বে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করে। বর্তমানে ওই রাস্তা ইচ্ছেমতো সম্প্রসারণের জন্য তারা উঠেপড়ে লাগে। আর এতে যোগ দিয়েছে কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়ার বাসিন্দা, কথিত ঠিকাদার আসাদ। চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও জালিয়াতচক্র আসাদকে ব্যবহার করে এবং সে পৌর মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে আনোয়ারের ভাড়া দেওয়া দোকানপাট উচ্ছেদে তোড়জোর চালাচ্ছে।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ গতকাল বুধবার দুপুরে আসাদ সিন্ডিকেট রাস্তা সম্প্রসারণের দোহাই দিয়ে উক্ত জমির স্থাপনা অপসারণের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে জমির মালিক আনোয়ার হোসেন পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাত করে প্রতিকার চান। এসময় মেয়র সাথে সাথে আসাদসহ অন্যান্যদের ওই জমিতে কোন উচ্ছেদ কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ দেন।
মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, উক্ত জায়গার বিষয়ে ইতিপূর্বে কক্সবাজার জেলা যুগ্ম জজ আদালতে অপর ৪৯/১১, অপর ৩০৯/১২, অপর ১৯৬/১২, অপর ১৩১৩/১৪ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় প্রতিটি মামলাতেই ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা তথা স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উক্ত জায়গার উপর দিয়ে প্রতিপক্ষ ২০০৯ সালে জোর পূর্বক রাস্তা নির্মাণ করতে চাইলে তৎকালীন ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমান কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান জায়গাটি সম্পূর্ণ আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে আদালতকে লিখিত ভাবে জানান।

উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আসাদের মোবাইল ফোনে গতকাল দুপুর ও বিকেলে একাধিকবার কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া গেছে।