কক্সবাজারে গোমাতলী বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ

image-39082-1553269493.jpg

কক্সবাজার: সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নে গোমাতলী বেইলি ব্রিজের পাটাতন সরে বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ফাঁক

সায়ীদ আলমগীর,

কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নে গোমাতলী বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিজের কয়েকটি পাটাতন ক্ষয়ে গিয়ে ভেঙে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ ছাড়া মালামাল পরিবহন নিয়ে ভোগান্তিতে আছে লবণ ব্যবসায়ীসহ অন্যরা।

ব্রিজের লোহার পাটাতনের কয়েকটি জোড়া ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচলের সময় বিকট শব্দ হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারী রয়েছে আতঙ্কে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পূর্ব গোমাতলীর পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহত্তর গোমাতলীতে প্রায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি এলজিইডির সড়ক রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার একর লবণ মাঠে গ্রীষ্মে লবণ উত্পাদন ও বর্ষায় বাগদা চিংড়ি চাষাবাদ করা হয়। উত্পাদিত এসব পণ্য পরিবহনে স্থল যোগাযোগের জন্য ঈদগাও-গোমাতলী সড়কের গোমাতলী বেইলি ব্রিজটি একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু মাস ছয়েক আগে থেকে গোমাতলী বেইলি ব্রিজটির উভয় পাশ ও মাঝখানে ক্ষয়ে গিয়ে স্থানে স্থানে গর্ত হয়ে গেছে। ফলে যাতায়াত নিয়ে লবণ ও মত্স্য চাষি, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির মানুষ ভোগান্তিতে আছে।

এ সড়কে ইজিবাইক চালক শফি আলম বলেন, যাত্রী ও মালামাল নিয়ে ব্রিজ পার হতে গিয়ে অনেক সময় ভাঙা পাটাতনে চাকা ঢুকে গিয়ে গাড়ি উল্টে যাবার ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ব্রিজ পার হই।

লবণ চাষি মালিক হাফেজ জমির উদ্দিন জানিয়েছেন, ব্রিজের প্রায় সব পাটাতনের জোড়া (জয়েন্ট) খুলে গেছে। কিন্তু ভাঙা বা খুলে যাওয়া অংশে কোনো প্রকার বিপজ্জনক সংকেত বা নিশানা না থাকায় নতুন আসা গাড়িগুলো দুর্ঘটনায় পড়ছে বেশি। সড়কটিতে বড় কোনো যানবাহন না থাকায় ছোট যানেই ভরসা করতে হচ্ছে ব্রিজের এপার-ওপারের লাখো মানুষকে। ফলে ব্রিজটি এখন সকলের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত শুক্রবার ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের একাধিক পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা (সিএনজি), ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও বাইসাইকেল চলাচল করছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ব্রিজ পার হচ্ছেন। রাতে ভাঙা ব্রিজে আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পাটাতনের ভেতর পড়ে যান বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা সামশুল আলম।

পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থানীয় সদস্য কলিম উল্লাহ জানান, স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত লবণ ও মাছ পরিবহনের জন্য আগে মিনিট্রাক ও মাহিন্দ্রা ব্যবহার করা হতো। কিন্তু ব্রিজটির দুর্দশার কারণে তা বন্ধ রয়েছে। ছোট ছোট গাড়িতে পরিবহনের কাজ সারা হচ্ছে। তা ছাড়া, সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। যাতায়াত করে কয়েকশ শিক্ষার্থী। কালবিলম্ব না করে ব্রিজটি সংস্কার করা জরুরি বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে এলজিইডি সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লবণাক্ত আবহাওয়ার কারণে কয়েক বছর পরপর বেইলি ব্রিজটির পাটাতন ক্ষয়ের ঘটনা ঘটে। এবারও পাটাতন উঠে যাওয়া ও ক্ষয়ে যাওয়ার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সরকারি কাজ বিধায় সংস্কারে কিছু প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়। মেরামতের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।