জেলার সর্বত্রে হাত বাড়ালেই জাল সনদ!

i.jpg
শাহীন মাহমুদ রাসেল
অবিকল একই সাধারণের বুঝার কোন উপায় নেই। এমনকি কোন একসেস না থাকায় অনেক বিয়ে পড়ানো রেজিস্ট্রাট কাজী ও সনাক্ত করতে পারেন না এসব যে জাল সনদ।
কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একাধিক স্টুডিও ও কম্পিউটারের দোকানে জাল কাগজপত্র তৈরীর চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। যেখানে সেখানে মিলছে তৈরী করা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ ও নানা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট সহ ট্রেড লাইসেন্স।
এসব জাল সনদ তৈরীতে সরকার একদিকে হারাচ্ছে তার রাজস্ব অপরদিকে জাল কাগজে বাড়ছে আইনি জটিলতা। বেগ পেতে হচ্ছে আদালত কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরও। বিব্রত অবস্থায় পড়ছে অনেক ইউপি চেয়ারম্যানও। কক্সবাজার শহরের বেশির ভাগ স্টুডিও ও কম্পিউটারের দোকানে চলছে জাল সনদের রমরমা এ বানিজ্য। এখানে হাত বাড়ালেই অল্প দামে মিলছে জাল ও ভুয়া সার্টিফিকেট ও নানা মার্কসিট।
একাডেমিক যোগ্যতা না থাকলেও যে কেউ চাইলে তৈরী করে নিচ্ছেন বিভিন্ন জাল সনদ। টাকার বিনিময়ে এসব জাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিভিন্ন এনজিও, গার্মেন্টস ও ফ্যাক্টরীতে কিংবা নানা প্রতিষ্ঠানে  চাকরি ও করছে। অনেকে আবার বিয়েও করছেন এ রকম অভিযোগও কম নয়। পরে বিবাহ বিচ্ছেদে এলাকার মহিলারা নানা জটিলতায়ও পড়ছে এ রকম খবর শোনা যায়।
বিভিন্ন কৌশলে প্রযুক্তি ব্যবহার ও নিজস্ব গোপন পেনড্রাইভ রেখে নানা ডিভাইসে অসাধু চক্র অনেকটা নীরবে এ কর্মকান্ড চালাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কোন অভিযান পরিচালনা না করায় সহজে ধরা পড়ছেনা।
অথচ রামু ও সদর উপজেলার নানা বাজারের আনাচে কানাচে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো অলিগলিতে স্টুডিও ও কম্পিউটারের দোকান। কোনটার নাম রয়েছে আবার কোনটার দোকানের সাইনবোর্ডও নেই। বিচিত্র ব্যবসা তাদের, মেমোরিতে গান লোড করা ও ছবি তোলার আড়ালে চলছে এসব জাল জালিয়াতি।
জানা যায়, বিগত ৮/১০বছরের মধ্যে শহরে গড়ে ওঠে নানা বড় বড় হোটেল-মোটেল ও শিল্প প্রতিষ্ঠান। হোটেল এবং এনজিও কিংবা নানা কোম্পানীতে চাকরি নিতে হলেও দরকার নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ। কিন্তু এসব কাজেও ব্যবহার হচ্ছে নানা ভুয়া সব কাগজপত্র এমনটি অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
পৌরসভা, সদর ও রামু উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রামু চৌমুহনী, ঈদঁগাও বাজার, লিংকরোড়, পানির ছড়া, জোয়ারিয়া নালা বাজার, এছাড়া উখিয়া টেকনাফ ও কক্সবাজার পৌরসভার ও আদালত পাড়ার একাধিক কম্পিটারের দোকানে এসব কার্যক্রম হয় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়। এসব বাজারের কম্পিউটারের দোকান ও ফটো স্টুডিও তে অতিদ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ও পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এসব দোকানে জাল সনদের ব্যবসা হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ কওে বলেন, মাত্র ২০০/৫০০ টাকায় মিলছে জাল সনদ ও নকল হুবহু সব ধরনের কাগজের কপি। অনেক দোকানে সনদ তৈরীর জন্য তাদের রয়েছে নানা সফটওয়্যার। ওই সফটওয়্যার এর সাহায্যে জাল সনদ তৈরী করে তাতে হুবহু সিল স্বাক্ষর বসিয়ে দিচ্ছেন তারা। যেন বুঝার কোন উপায় নেই যে সেটা আসল না নকল!!
দীর্ঘদিন এই চক্রটি জাতীয় পরিচয়পত্র, নানা ইউনিয়নের নাগরিকত্ব সনদ, ভূয়া ট্রেড লাইসেন্স, ভূয়া স্কুল সার্টিফিকেট ও ওয়ারিশ সনদ সরবরাহ করছে তারা। গত কয়েকমাস আগেও উখিয়া বাজারে একাধিক রোহিঙ্গাদের ভুয়া জাতীয় পরিচয় তৈরীর অপরাধে উখিয়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, গত বছর ৬ বস্তা ভুয়া খতিয়ানসহ নকল ওয়ারিশ সনদের প্যাড, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেয়রের সীলসহ সদর উপজেলা গেইট থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, ফঁতেখারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, জালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ সুত্রে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের জাল কাগজ তৈরী করা একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সরকারী কাগজপত্র কিভাবে তারা সিল স্বাক্ষর করে বানায় দিচ্ছে আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা মাসিক মিটিং এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবো। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরাও একটু বিষয়টি তুলে ধরুন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী, কক্সবাজার আইন কলেজের অধ্যাপক এডভোকেট সৈয়দ মোঃ রেজাউর রহমান বলেন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করা আইনত অপরাধ। এসব জাল জালিয়াতি কাগজের কারণে আদালতে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও পড়তে হচ্ছে নানা বিভ্রান্তিতে ও বিব্রতকর অবস্থায়।’