ইনিংস হারের শঙ্কায় এখন টাইগাররা

Tiger-15.jpg

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ একমাত্র তামিম ইকবাল ছাড়া ব্যাটিংয়ে সবাই বিবর্ণ। ব্যাট চালাতেই যেন তারা ভুলে গেছেন! একই অবস্থা বোলিং বিভাগেও। বোলারদের অবস্থা যেন ছন্নছাড়া। লাইন, লেংথহীন তথৈবচ বোলিংয়ে বিদেশের মাটিতে এই প্রথম প্রতিপক্ষ দলের কোনো ইনিংসে ন্যূনতম ৭১৫ রান হজম করতে হলো বাংলাদেশকে। নিজেদের সুদীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম দলীয় ৭১৫ রানের দেখা পেলো ব্ল্যাকক্যাপসরা।

নিউজিল্যান্ড সফর উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও সিরিজটিকে সামনে রেখে কোনো অনুশীলন ক্যাম্পই আয়োজন করতে পারেনি বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলও যা হওয়ার তাই হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। ওয়ানডে সিরিজে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। টেস্ট সিরিজেও তিনদিন পেরুতেই ইনিংস হারের শঙ্কায় এখন টাইগাররা।

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়ানডে স্টাইলে ১২৮ বলে ১২৬ রান করা তামিম সেদিন না দাঁড়াতে পারলে অবস্থা আরও করুণ হতে পারতো। বিবর্ণ ব্যাটিংয়ে তামিম ছাড়া সবাই আসা যাওয়ার মিছিলে ছিল।

২৩৪ রানের জবাবে খেলেতে নেমে ৬ উইকেটে ৭১৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৭৪ রান। ব্যাটিং-বোলিং কোনো দিক দিয়েই যেন কিউইদের সঙ্গে পেরে উঠছে না টাইগাররা। মিরাজ ৪৯ ওভার বোলিং করে ২৪৬ রান দিয়েছেন। এতো রান খরচ করে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন এক নম্বরে।

ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুতিহীনতাকেই দায়ী করলেন স্পিন কোচ সুনিল যোশি। বিপিএল শেষ হতে না হতেই মাশরাফি, তামিমদের নিউজিল্যান্ডের বিমান ধরতে হয়েছে। যা চলতি সিরিজে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত যোশির।

জোশির ভাষায়, `যদি আপনি কন্ডিশনের দিকে তাকান, আমাদের দেশে ভালো একটা প্রস্তুতি নেওয়া উচিৎ ছিল। সফরের আগে আমাদের প্রস্তুতি কেমন ছিল… জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় বিপিএল খেলেছে। আমি একে দোষারূপ করছি না। তবে এটা অবশ্যই আদর্শ প্রস্তুতি ছিল না।`

বাংলাদেশ প্রথম ভোগান্তির মুখ দেখেছিল ২০১৪ সালে। দেশের ৬ উইকেটে ৭৩০ রান তুলে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচে এক ইনিংস ও ২৪৮ রানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচের গতি-প্রকৃতি তো তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে!