রোহিঙ্গ্যা মানবিক সংকটে জাতিসংঘের ৯২০মিলিয়ন ডলার আহ্বান

Rohingya-4.jpg

 প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ

জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা এবং সহযোগী এনজিও সমূহ আজ রোহিঙ্গ্যা মানবিক সংকট মোকাবেলায় যৌথ সাড়া দান পরিকল্পনা-২০১৯ প্রকাশক রেছে। এই আবেদনটি তে প্রায় ৯,০০,০০০ রোহিঙ্গ্যা শরণার্থী এবং ৩,৩০,০০০ ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশী স্থানীয় জনগণের ব্যাপক প্রয়োজন মেটাতে ৯২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বছরের অর্থ সহায়তার অর্ধেকের বেশি প্রয়োজন হবে সহায়তা এবং সেবা সমূহ যেমন খাদ্য ,বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ , পয়ঃনিষ্কাশন ও আশ্রয়ণের জন্য। আবেদনটিতে অন্যান্য প্রধান খাতগুলো হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, সাইট ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষা কর্মসূচি , শিশু সুরক্ষা , যৌন এবং লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা কমানো , শিক্ষা এবং পুষ্টি সেবা।

২০১৭  সালের আগস্ট মাসের পর ৭,৪৫,০০০ রোহিঙ্গ্যা শরণার্থী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সহিংসতা এড়াতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে পূর্ববর্তী সহিংসতা গুলোর সময় পালিয়ে এসে কক্সবাজারে অবস্থানরত আরো ২,০০,০০০ রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীর সাথে যোগ দেয়। বাংলাদেশী কতৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদারতা এবং সহযোগিতায়, সংকটপূর্ণ প্রয়োজন মেটানো এবং সে সময় অনেক জীবন রক্ষা পেয়েছে। বাংলাদেশী কতৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণ ছিলেন মূলত প্রথম সাড়া দানকারী ( first Res ponder) ।

বাংলাদেশ সরকার এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলির সংহতিপূর্ণ অবস্থান ২০১৮ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

“আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক আন্তোনিও ভিতোরিনো বলেন, “সামনের দিন গুলোতে আমরা এই মানুষগুলোর অতিব প্রয়োজন মেটানোর অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করছি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে আহ্বান জানাচ্ছি।”

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ” আজকে আমাদের মানবিক আবশ্যিকতা হচ্ছে রাষ্ট্র বিহীন রোহিঙ্গ্যা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয়দের অবস্থা স্থিতিশীল রাখা।এই বছরের আবেদনটির লক্ষ্য পূরণে আমরা সময়মত, সুবিধাজনক ও আশাব্যঞ্জক অবদান প্রত্যাশা করছি। ”

গ্র্যান্ডি আরো বলেন, ” কিন্তু আমরা যখন এই সব তাৎক্ষণিক মানবিক প্রয়োজন মোকাবেলা করছি তখন সমাধানের দিকে দৃষ্টি হারানো যাবে না। আমি আবারো মিয়ানমারের প্রতি দশক ধরে চলতে থাকা এই সংকটের মূল কারণগুলো নিরসনে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানানো যাতে করে মানুষগুলো আর পালতে বাধ্য না হয় এবং শেষ পর্যন্ত মর্যাদার সাথে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে।  আমরা এই অঞ্চলের এবং এর অঞ্চলের বাইরের দেশগুলো কে বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এবং মিয়ানমারকে স্বেচ্ছা , নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়তা করার জন্য উৎসাহিত করছি।”

নুতন যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা একটি সামগ্রিক মানবিক প্রচেষ্টা কে তিনটি কৌশলগত উদ্দেশ্য আকার দিয়েছে। এখানে ১৩২ সহযোগী সংগঠন, জাতিসংঘ ভুক্ত সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও দেশী এনজিও এবং সরকারী সংস্থাগুলো কে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার মধ্যে এনেছে যার লক্ষ্য হচ্ছে শরণার্থীনারী , পুরুষ , বালক ও বালিকাদের সুরক্ষা সেবা প্রদান , জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা।

যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা ২০১৯ হচ্ছে এখন পর্যন্ত অর্জিত রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীদের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তৃতীয় যৌথ মানবিক আবেদন। যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা ২০১৮- এর আওতায় ১২ মাসের বেশি সময় ধরে সাহায্য সংস্থাগুলো শরণার্থীদের আবাস স্থল গুলোতে অবস্থার উন্নতি ঘটাতে, মৌলিক সহায়তা প্রদান ,ক্যাম্পে জীবন মান উন্নয়ন, মৌসুমী বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড় ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কাজ করেছে।

বিকল্প জ্বালানী হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস( এলপিজি ) প্রদান শুরু করার ফলে জ্বালানী কাঠের চাহিদা কমায় রোহিঙ্গ্যা ঢলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ গত প্রভাব কম তেশুরু করেছে।

২০১৭ সালের শেষের দিকের তীব্র অপুষ্টির প্রাদুর্ভাব-এর লেভেল কম তে শুরু করেছে , যেটা এখন কমে ১৯ থেকে ১২ তে নেমেছে, খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হয়েছে , টিকাদান কর্মসূচি বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯শতাংশ হয়েছে , স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শিশু জন্মদান হার বেড়ে ২২ থেকে ৪৪ শতাংশে হয়েছে।

এ গুলো এবং অন্যান্য অর্জন গুলো ছাড়া ও রোহিঙ্গ্যারা চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে ।এ জন্য টেকসই সহায়তা খুব গুরুত্বপূর্ণ । মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হবার মূল কারণ সমূহ নিরসন হওয়া এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে শরণার্থীরা ফিরে যাওয়া পর্যন্ত তাদের ও স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন মিটাতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কে অবশ্যই সহায়তা প্ৰদান করা হবে।

যেমন ,সকল শরণার্থী জনগোষ্ঠি ২০১৮ সালের বর্ষা মৌসুমের সাথেই খাপখাইয়ে নেবার জন্য জরুরী আশ্রয়ন কীট গ্রহণ করেছে । কিন্তু এখন আরো নিরাপদ ও শক্ত আশ্রয়ন প্রয়োজন।

প্রায় ৮,৬০,০০০ জন নিয়মিত খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করছে। এখন পর্যন্ত ২,৪০,০০০ শরণার্থী সর্ব নিম্ন প্যাকেজে যেমন চাল , ডাল এবং তেল এর বাইরে বৈচিত্রপূর্ণ খাদ্য পাচ্ছে।  তাদের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিশ্চিত করতে এই সহায়তা গুলো বর্ধিত করতে হবে। একই ভাবে, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন , স্বাস্থাসেবা , সুরক্ষা সেবা ও গুরুত্ব পূর্ণ।

২০১৮ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় আবেদনকৃত ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এর বিপরীতে ৬৯ শতাংশ অর্থাৎ ৬৫৫মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগৃহিত হয়ে ছিল।