‘এ যেন ভানুমতির খেল’

আবারো ইশতিয়াক আহমেদ জয় এর ঝড় তোলা ফেইসবুক স্ট্যাটাস
Istiak-1.png

সিনিয়র প্রতিবেদক:

দেশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত উখিয়া-টেকনাফের মাদক মাফিয়া ডনেরা আগামী শনিবার আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে। এমন খবরে কক্সবাজার জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কিছু শীর্ষ দৈনিকের রিপোর্টে জানা যায়, নামের আগে যার বহু বিশেষণ সেই ‘মাদক সম্রাট’ খ্যাত বদি’ তালিকায় থাকলেও আত্মসমর্পণ করছেন না। এ নিয়ে কক্সবাজারে অনেকের নানা মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।

আজ দুুপুর ১টায় ‘এ যেন ভানুমতির খেল’ নামক নিজের ফেইসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়। যা মুহুর্তেই ঝড় তোলে আবারা পুরা জেলা জুড়ে।

এই স্ট্যাটাসে কক্সবাজারের তাহসিন আলম সাদ নামক একজন মন্তব্য করেন, ‘রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে লোক দেখানো আতœসমর্পন চাই না, সাবেক এমপি বদি সাহেব, হাজী সাইফুল, জাফর চেয়ারম্যান, এমপি বদির আপন সহোদর শুক্কুর সহ বড় বড় ইয়াবা ব্যান্ডাররা যদি এই আত্নসর্ম্পনের আওতায় না আসে তবে এইসব করে কোন লাভ হবে না, সাথে তাদের সকল রকমের সম্পত্তি সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে, তা নাহলে আত্নসর্ম্পনের এই প্রক্রিয়া সফল হবে বলে মনে করি না।’

অপরদিকে ইশতিয়াক আহমেদ জয় এর ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল—

“তালিকায় নাম থাকা সত্তে¡ও কোন এক অদৃশ্য কারনে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছেন টেকনাফ সীমান্তের অনেক বড় বড় ইয়াবা কারবারি বা গডফাদারেরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ৭৩ ইয়াবা কারবারির মধ্যে প্রথম ১০ জনের কেউই আগামীকাল শনিবারের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আত্নসর্ম্পন করছেন না।

ঠিক কোন কারনে কেন তাহারা আত্নসর্ম্পন করছেন না এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না কেউই!!
৭৩ জন ইয়াবা গডফাদারদের এই তালিকায়
শীর্ষে অর্থ্যাৎ প্রথম দশজনের মধ্যে…
এক নম্বরে রয়েছেন টেকনাফের সাবেক সাংসদ এজাহার মিয়া কোম্পানীর পুত্র আবদুর রহমান বদির নাম।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টেকনাফের শীলবনিয়ার হানিফ ডাক্তারের পুত্র সাইফুল করিম ওরফে হাজী সাইফুলের নাম। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সাবেক বিএনপি নেতা টেকনাফের বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের নাম। চতুর্থ স্থানে রয়েছে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির আপন সহোদর আবদুস শুক্কুরের নাম।

পাঁচ নম্বরে রয়েছে সাবেক এমপি বদির আরেক সহোদর টেকনাফ পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র মৌলভী মুজিবুর রহমানের নাম।

সীমান্তের একাধিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের নেতৃত্বদান কারী মৌলভী মুজিব এখন প্রকাশ্যে দিব্যি ঘোরাফেরা করে বেড়াচ্ছেন।

তালিকায় এরপরে..
ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়ার নাম।

তালিকায় এরপরে দিকে রয়েছেন..
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দীন ও তাঁর আপন সহোদর বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দীনের নাম।

শীর্ষ দশের শেষের নামটি খুব সম্ভবত টেকনাফ পৌরসভার জালিয়া পাড়ার ইয়াবার লগ্নিকারক ও হুন্ডিসম্রাট হিসেবে খ্যাত জাফর আহমদ ওরফে টিটি জাফর।

যতদ‚র জানি …
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শুধু মাত্র
হাজী সাইফুল ছাড়া বাকী সবাই অর্থ্যাৎ জাফর চেয়ারম্যান,মৌলভী মুজিব,আবদুর শুক্কুর,জাফর চেয়ারম্যানের পুত্র শাহাজান মিয়া,শামলাপুর ইউনিয়নে আপন দুই সহোদর মৌলভী রফিক ও মৌলভী আজিজ সহ টিটি জাফরদের মতোন গডফাদারেরা সকলেই কক্সবাজার শহর কিংবা টেকনাফের মধ্যে প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করে বেড়াচ্ছেন।

গডফাদারের তালিকায়..
শীর্ষে অবস্থান করা এই বিশাল সংখ্যাক ইয়াবা গডফাদারদের আত্নসর্ম্পন অনুষ্ঠান প্রক্রিয়ার মূল পর্বের বাইরে রেখে ইয়াবা নির্মুল কতটা সম্ভব কিংবা আদৌ সম্ভব কিনা তানিয়ে বড় ধরনের সংশয় থেকে যায়!

অনেকেই বলছেন..
শীর্ষ কারবারীদের আত্নসর্ম্পনের আওতায় না আনলে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি “আইওয়াশের” অনুষ্ঠানে পরিনত হবে।

যাইহোক..
ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় আশাবাদীদের দলে।
প্রত্যাশা করছি,
সব সংশয়কে পেছনে ফেলে যথাযত নিয়ম অনুসরণ করে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর সময়পোযুগী আত্নসর্ম্পন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠানের গৌরবগাঁথা গল্প ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেবে।”