লাখ টাকায় ছাত্রলীগের সভাপতি হলেন শিবির সভাপতির ভাই!

received_1472653446199041.jpeg

শাহীন মাহমুদ রাসেল

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে সাবেক শিবির সভাপতির ভাইকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার অভিযোগ উঠেছে। সদ্য ঘোষিত ইউনিয়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর কাশেম (২৭) কে। সে অফিস পাড়া গ্রামের মকবুল আহাম্মদের ছেলে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হালিমুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহাম্মদ বাবুর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে মীর কাশেমকে সভাপতি, আব্দুল মজিদকে সাধারণ সম্পাদক ও জয় মোহাম্মদ জিশানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কালারমারছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একুশ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। আগামী এক বছরের জন্য এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে কমিটিতে একই ইউনিয়নের সাবেক শিবির সভাপতির ভাই শিবিরকর্মীকে সভাপতি করে কমিটি ঘোষণার পর ফেইসবুকসহ সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। যার ফলে ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা নিয়ে উপজেলা সভাপতি হালিমুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহামম্মদ বাবু এই কমিটি প্রকাশ করেছে। কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা জানান, ব্যাপক দরকষাকষির পর চাহিদামত টাকা পেয়ে কমিটি ঘোষনা করেন উপজেলার এই দুই নেতা। আবার অন্যদিকে ক্ষোভ প্রকাশ ও কমিটি বাতিলের দাবি করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা।

কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুকে লিখেন, ২০১৩ সালে মহেশখালীতে জামায়াত-শিবিরের ভয়াবহ তাণ্ডব, নাশকতা চলাকালীন সময়ে নেতৃত্বে ছিলেন তার ভাই ওই ইউনিয়নের শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিম। কিন্তু এখন সে (বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি) মীর কাশেম। তার ভাই শিবির সভাপতি থাকাকালীন বিভিন্ন চোরাগুপ্ত হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা- কর্মীদের মারপিট করে ঘরছাড়া করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, মীর কাশের ভাই নুরুল হোসাইন চট্টগ্রাম উত্তর শাখা শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। শুধু তাই নয়, তার বড় ভাই অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বেলাল সাবেক শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তবে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতারা কমিটি গঠনের আগে ইউনিয়নে আমাদের সাথে পরামর্শ করলে অনুপ্রবেশকারীরা দলে ঢুকতে পারতেন না।

এই নেতা অবিলম্বে কালারমরছড়া ইউনিয়ন কমিটি বাতিল ও মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদককে দলে শিবির নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বহিস্কারের দাবি জানান।

জানতে চাইলে কালারমরছড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা তারেক শরীফ বলেন, তার বাবা একজন মুজিব আদর্শের সৈনিক। তার ভাই সাবেক শিবির সভাপতি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরোও বলেন, শুনেছিলাম ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় শিবির করতো, তবে এখন আর জানিনা।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হালিমুর রশিদ টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, আমরা স্থানীয় আ.লীগ ও (ইউপি) চেয়ারম্যানের পরার্মশ নিয়েই কমিটি গঠন করেছি। তাছাড়া সে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের সাথে ছিলেন।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।