প্রসঙ্গ: মানুষকে ধার দেওয়া কিন্তু প্রয়োজনে ফেরত না পাওয়া!

Mahbuba-Sultana-Sheuly.jpg

লেখক: মাহবুবা সুলতানা শিউলি:

আসলে বর্তমান যুগটা চিটিং বাটপারের যুগ হয়ে গেছে। বর্তমানে সবাই টাকার সমস্যা নিয়ে আছে একথা বিশ্বাস করি।। মানুষ না চায়লেও চিটিংবাজ হিসেবে নিজের নামটাও চলে যায়। যা সত্যিই খুবই দুঃখজনক।

আসলে খুব খারাপ লাগে যখন কাউকে ধার দিয়ে তা আর কোনভাবেই ফেরত পাওয়া যায় না। একথাও ঠিক বিপদে পড়েই মানুষ ধার করে কিন্তু পরিশোধের বিষয়টা মানুষ গুরুত্ব দেয়না।

যে টাকা ধার দেয় সেও যে কষ্টে আছে তারপরও অন্যের কষ্ট লাঘব করতে গিয়ে নিজেই জড়িয়ে যায় আরেক কষ্টে। কারও কাছ থেকে ধার নিলে যত দ্রæত সম্ভব তা ফেরত/পরিশোধ করা উচিত। কারণ নিজের মানসম্মান বলে একটা বিষয় আছে।

যেই সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে পারার সম্ভাবনা আছে ঠিক ততদিনের জন্য সময় নেয়া উচিত। কেননা যে ধার দিচ্ছে তার অঢেল আছে বলে দিচ্ছে না। মানবিকতা এবং অপরের বিপদে শরীক হবার জন্য দায়িত্ববোধ থেকেই দিচ্ছে। হয়তো নিজের সমস্যা আপনার চেয়েও হাজারগুণ বেশী তথাপি মুখলজ্জায় নিজের গুলো চেপে গিয়েও আপনার উপকার করেছে।

সুতরাং অকৃতজ্ঞ না হয়ে যত দ্রæত সম্ভব অন্যের ধার পরিশোধ করা উচিত। আর যে ধার দেয় সেও বার বার একই ভুল করে, আসলে ভুল বলছি একারণে সে হয়তো জানে সময়মতো তার টাকা সে ফেরত পাবেনা বা অনেক সময় প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থাকে তারপরও মানুষের দুঃখকষ্টের কথা শুনলে নিজেরটা ভুলে যায়!

তাই আমরা দায়িত্বশীল হই। ছোট ছোট ভুলগুলো করে নিজের মানসম্মানটা নষ্ট না করি। আপনাকে ধার দিয়ে যিনি মানুষের দায়িত্ব পালন করেছেন তারপ্রতি অমানবিকতা না দেখিয়ে দায়িত্বশীল হোন। মানসম্মান নষ্ট করার জন্য ছোট্ট ছোট্ট ভুলগুলোই যথেষ্ট।

পরিশেষে বলতে চাই কবি কামিনী রায়ের বিখ্যাত কবিতা ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’ কবিতাটির লাইনগুলো মনে রাখা।

“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণেও সুখ,
‘সুখ-সুখ’ করি কেঁদো না আর;
যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে,
ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।।”

লেখক: মাহবুবা সুলতানা শিউলি
মেম্বার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।