আপডেটঃ
সততার শক্তি অপরিসীম, সেটা আমরা বারবার প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি৫৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা ঢাকা ডায়নামাইটসসর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মেনে চলার নাম ইবাদতকক্সবাজার জেলায় ওয়াইফাই জোন স্থাপনের নিমিত্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতবেনাপোল পুটখালী ফেনসিডিল সহ আটক ৩ফরহাদ রেজার ঝড়ে হেরে গেলেন স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্সযে আস্থা এবং বিশ্বাস নিয়ে জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে, সে মর্যাদা আমি রক্ষা করবঃ প্রধানমন্ত্রীঅবশেষে জ্বলে উঠল সাব্বিরবাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ফের সংলাপে বসার আহ্বান জাতিসংঘআগামী সোমবার ঘটবে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণসভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ আজ‘জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুনরাই হবে আগামী দিনের সৈনিক’চট্টগ্রামে ৩টি হাইটেক পার্ক হচ্ছেপ্রতারণামূলক বাণিজ্য ‘১টি কিনলে ১০টি ফ্রি!’

গুগল জয় করতে আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের নাফিস

আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে নাফিসের গুগল অধ্যায়ের যাত্রা শুরু।

Google-Nafis.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে টেক জায়ান্ট গুগল এর ইউরোপিয় ইউনিয়ন হেডকোয়ার্টারে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের ছেলে নাফিস সাদিক। নাফিস সাইট রিলায়াবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার (এস.আর.ই) হিসেবে গুগলকে সাহায্য করবেন।

নাফিসের বেড়ে ওঠা ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানায়। বাবা আব্দুল জলিল হাওলাদার এবং মা ফেরদৌস জাহান। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর প্রতি আসক্ত ছিলেন নাফিস। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্সে স্নাতক পড়াকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এক সময় “আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট” (ICPC) ওয়ার্ল্ড ফাইনালিস্ট হিসেবে জায়গা করে নেয় নাফিস ও তার দল।

এরপর নাফিসকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রোগ্রামিং এর প্রতি ভালবাসা, অধ্যবসায় এবং কাজের প্রতি আগ্রহ তাকে সিঙ্গাপুরে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাউড শেয়ারিং কোম্পানি গ্রেব (Grab) এ চাকরি করার সুযোগ করে দেয়। দুবছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজের পরে নাফিস গুগলে যোগ দেবার জন্য আবেদন করেন।

 

এরপর গত বছর আগস্টে ডাবলিনে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে নাফিসকে যোগদানের জন্য আহবান করে গুগল।

একান্ত সাক্ষাৎকারে নাফিস জানায়,” ইন্টারভিউ এর জন্য ৪ দিন আমি ডাবলিনে ছিলাম, প্রথম তিন দিন শুধু ঘুড়ে বেরিয়েছি, বিশাল ক্যাম্পাস দেখেছি, ৪র্থ দিন সারাদিন ছিল দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা। ৪টি পর্যায়ে পরীক্ষা ছিল। প্রতিটা ৪৫ মিনিট করে। যার মধ্যে ছিল কোডিং, কমপ্লেক্সিটি ,কোড এনালাইসিস এবং সিস্টেম ডিজাইন।”

ইন্টারভিউ কেমন কঠিন ছিল জানতে চাইলে নাফিস বলে, “সত্যি বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এর থেকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি, তাই আমার জন্য গুগলের পরীক্ষা ছিল অনেকটা সহজতর।”

বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবস্থান জানতে চাইলে নাফিস জানায়, ” দেশে আমাদের গুড কোডিং প্র্যাকটিস কম হয়, দেখা যায় আপনি কোন কিছু ডেভেলপ করলেন, সেখানে অনেক বেশি বাগ অথবা এরর (কোডিং ত্রুটি)  থেকে যায়, এটা একজন ডেভেলপারের ক্ষেত্রে কখনই ভাল নয়। আর একটি বিষয় হল কাজ করার স্বাধীনতা, যা আমাদের দেশে কিছুটা তুলনামূলকভাবে কম। সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে। যা একদিক থেকে ভাল আবার নতুন প্রযুক্তি শেখার দিক থেকে খারাপ।”

বাংলাদেশিদের গুগলের মত বড় প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য নাফিস জানায় , “স্কুল কলেজ থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাটা অনেক জরুরি। কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রোগ্রামিং নিয়ে তেমন বিশ্বমানের চর্চা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়েও যা শেখানো হয় সেটা চাকরি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়। তাই অনেক বেশি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র গতানুগতিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলে হয় না, নতুন প্রযুক্তিকেও আয়ত্ত্ব করতে হবে।”

আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে নাফিসের গুগল অধ্যায়ের যাত্রা শুরু। নাফিসের মত এমন অনেক বাংলাদেশি তরুণ বিশ্বের বুকে জায়গা করুন এই প্রত্যাশা সমগ্র দেশের মানুষের। নাফিস তোমার জন্য রইল অনেক ভালবাসা আর শুভকামনা।

Top