বাইকে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবেন কেন?

Mobil.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্স: তেল বা অয়েল হল বাইকের ইঞ্জিনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান যেটা ছাড়া বাইক চালানো সম্ভব না। তেল হল বাইকের কাছে রক্তের মত একটা উপাদান।

মানুষ যেমন রক্ত ছাড়া বাঁচতে বা চলতে পারে না, তেমনই বাইকও ইঞ্জিন অয়েল ছাড়া অচল। এই ইঞ্জিন অয়েল বাইকের ইঞ্জিনের ঘর্ষণ প্রতিরোধ, বাইকটি স্মুথলি রান করানো, ইঞ্জিন ঠাণ্ডা রাখাসহ অনেক কাজে ব্যবহার করা হয়।

বাইকে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবেন কেন?
বাইক চালাতে নিয়মিত ফুয়েল বা জ্বালানি ভরতে হয়। কারণ ফুয়েল ছাড়া তো ইঞ্জিন চলবে না। ৬০০-৭০০ কিমি পথ চালানোর পর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন এবং বাইক সার্ভিসিং করতে হয়। এগুলো না করলে কিছু দিন চালানোর পর বাইক চালানোর অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

মূলত বাইকে অয়েল ব্যবহার করা হয় লুব্রিক্যান্ট হিসাবে। তাছাড়া বাইকের ইঞ্জিন ঠাণ্ডা রাখা, ইঞ্জিনের কর্ম দক্ষতা বাড়ানো, এন্টি-রাস্ট এজেন্ট হিসাবে এবং প্রটেকশন-এর জন্য ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা হয়।

বাজারে বিভিন্ন ধরণের এবং বিভিন্ন গ্রেডের বাইকের ইন্জিন অয়েল পাওয়া যায়। আমরা বেশির ভাগ বাইকাররা জানি না একটা গ্রেড থেকে আর একটা গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েলের তুলনামূলক পার্থক্যটা কি?

সাধারণত যেসব ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা হয় সেগুলোর কোড হল SAE, JASO, MA, MA2, 20W40, 20W50,10W30 ইত্যাদি। এসব কোড ইঞ্জিন অয়েলের কনটেইনারে লেখা থাকে। যেগুলো দ্বারা ওই ইঞ্জিন অয়েল কোন প্রকারের এবং কি জন্য ব্যবহার করা হয় জানা যায়। আসুন আমরা কমন কিছু ইঞ্জিন অয়েলের ক্লাসিফিকেশন এবং কিসের জন্য ব্যবহার করা হয় জেনে নিই।

API – American Petroleum Institute
JASO – The Japanese Automotive Standards Organization
“S” grade stands for Petrol vehicles. (Sprak Ignition)
“C” grade stands for Diesel vehicles.(Compression)
“W” for winter
Multi grade
Single grade
EP – Extra Pressure
SAE (Society of Automotive Engineers
MA – Grade for Wet Clutch type vehicles (HIGH FRICTION VEHICLES. Non Clutch Slipping Oil)
MA2- next version of MA(HIGH FRICTION VEHICLES Non Clutch Slipping Oil)
MB – LOW FRICTION VEHICLES(NOT RECOMMENDED. Clutch Slipping Oil)

এখানে আমরা দেখছি যে “S” গ্রেডের অয়েল পেট্রোল ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয় যার ইগনিশন সিস্টেম স্পার্ক সুতরাং বাইকের জন্য অবশ্যই আমাদের “S” গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করতে হবে। “C” গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য এবং MA গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল হলো ওয়েট ক্লোচ টাইপের ইঞ্জিনের জন্য।

EP/Extra Pressure গিয়ার বক্সে ব্যবহারের জন্য ভালো। কিন্তু ইঞ্জিন অয়েল হিসাবে এবং ২ স্ট্রোক ইঞ্জিনের গিয়ার বক্সে ব্যবহারের জন্য ভালো না।

পেট্রোল ইঞ্জিন অর্থাৎ বাইকের ইঞ্জিন অয়েল গ্রেডগুলো হলো SA, SB, SC, SD, SE, SF, SG, SH, SJ, SL এবং SM। বেশির ভাগ মানুষ API/SAE-SL/SM (JASO MA or MA2) কোডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন এবং উক্ত কোডের মধ্য SM গ্রেডের অয়েল তুলনামূলকভাবে ভালো। এটার ভালো অক্সিডেশন রেসিসটান্স আছে, ডেপোজিট ও ওয়ার প্রটেকশন করে আবার কম তাপমাত্রায় ভালো কাজ করে।

বাংলাদেশের বাইকগুলো যেহেতু ম্যাক্সিমাম ইন্ডিয়ান এবং ইন্ডিয়ার সবগুলো বাইকই ওয়েট ক্লাচ সিস্টেমের সুতরাং আমাদের এই বিষয়টা খেয়াল করে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করতে হবে। যার যে বাইক এবং সেই বাইক কোম্পানি যে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করতে রিকমেন্ড করে সেই টাইপের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা ভালো।

বিভিন্ন কোয়ালিটি এবং বিভিন্ন গ্রেডের জন্য নিচের ইনফরমেশন থেকে জানা যায় ওই গ্রেড বা ওই ইঞ্জিন অয়েল উক্ত তাপমাত্রার নিচে কাজ করে না।

0° C(32° F) – 5W-20, 5W-30, 10W-30,10W-40,20W-50
-18° C (0° F) – 5W-20, 5W-30, 10W-30, 10W-40.
BELOW -18° C (0° F) – 5W-20, 5W-30.

আবার একই গ্রেডে কিছু ভিন্ন টাইপের অয়েল আছে। যা এদের উপাদান এবং তৈরি পদ্ধতির জন্য ভিন্ন হয়। যেমন- মিনেরাল, সিনথেটিক এবং সেমি-সিনথেটিক অয়েল।

মিনেরাল অয়েল
ভূ-গর্ভ থেকে যে অয়েলটা আমরা পাই সেটিকে মিনেরাল অয়েল বলে। যাকে সাধারণত ন্যাচারাল অয়েল বলা হয়।

সিনথেটিক অয়েল
রাসায়নিকবিদরা ল্যাবে যে অয়েল উৎপন্ন করে সেটি সিনথেটিক অয়েল।এটি মূলত কৃত্রিম অয়েল। এটা বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে গবেষণাগারে তৈরি করা হয়।

সেমি- সিনথেটিক অয়েল
মিনেরাল এবং সিনথেটিক অয়েলের মিশ্রণকে সেমি-সিনথেটিক অয়েল বলে।

মিনারেল অয়েলের সাথে সিনথেটিক অথবা সেমি- সিনথেটিক অয়েল মিশানো যাবে না। আপনি আপনার বাইকে ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তন করার জন্য বছরে একবার বা ২ বা ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের আগে ফ্লাসিং অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। অবশ্য এটা আপনি বছরে মোট কত কিলোমিটার বাইক রাইড করছেন এটার উপরেও নির্ভর করে। তবে কার্বন পরিষ্কার করার জন্য ফ্লাসিং অয়েলের পরিবর্তে কখনও ভুল করেও কেরোসিন বা ডিজেল বা পেট্রোল ব্যবহার করবেন না। এটা বাইকের ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

নতুন গ্রেড অয়েলে কার্বন কণা দূরিকরণের জন্য পুরাতন গ্রেড থেকে ভালো পরিষ্কারক আছে। সুতরাং পুরাতন গ্রেড থেকে নতুন গ্রেড ব্যবহার করা ভালো। কখনো গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল বাইকে ব্যবহার করা যাবে না।

আর মনে রাখতে হবে ঘর্ষণ কমানোর জন্য বাইকের ইঞ্জিন ‍ অয়েলের সাথে আলাদা করে কোন লুব্রিকেন্ট বা অয়েল ব্যবহারের কোন দরকার নেই। এটার ইঞ্জিন অয়েলই এটার জন্য যথেষ্ট । আর যদি এটা ব্যবহার করেন তাহলে বেশি লোডে থাকার সময় অথবা বেশি স্পীডে ক্লাচ স্লিপ করতে পারে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে বাইকের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করার জন্য আমাদের অনেকগুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে। যা বাইকের যত্নের জন্য খুবই প্রয়োজন। আজ আর নয় আমরা নিজেদের দিকে খেয়াল রাখব এবং বাইক চালানোর সময় ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলব।

লেখক : শুভ্র সেন