বাংলাদেশের বালিদ্বীপ

Balidip.jpg

বাংলাদেশের বালিদ্বীপ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আশীর্বাদ তো রয়েছেই, এর সঙ্গে যোগ সঠিক পর্যটন পরিকল্পনা। ইউরোপ, আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, এশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছুটে চলা মানুষটি চরফ্যাশনকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও পর্যটনবান্ধব নগরী গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সে পথেই এগিয়ে চলেছেন। চরফ্যাশনের চরকুকরী-মুকরী, তারুয়া, ঢালচরসহ নতুন বাংলাদেশ হিসেবে জেগে ওঠা শিবচর নিয়ে রয়েছে অনেক পরিকল্পনা। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা মতো গড়ে উঠেছে জ্যাকব টাওয়ার, শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক, ফ্যাশন স্কয়ার ও পানির ফোয়ারা, চর কুকরী-কুকরীতে অবকাশ যাবন কেন্দ্র, ইকোপার্ক, ঢালচরে কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও লাইটিং হাউস। নদীভাঙন রোধে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে মেঘনা পাড়ের জীবনে এসেছে স্বস্তি।

জ্যাকব টাওয়ার

চরফ্যাশনে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আইকনিক জ্যাকব টাওয়ার। ২২৫ ফুট উচ্চতার এই ‘ওয়াচ টাওয়ার’ তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। দৃষ্টিনন্দন এই টাওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন পরিচিত এনে দিয়েছে। ১৯তলাবিশিষ্ট টাওয়ারটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির সঙ্গে রয়েছে ১৩ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। ওয়াচ টাওয়ারটিতে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার। এছাড়া বিশ্রামাগার, প্রাথমিক চিকিৎসাসহ খাবারের আয়োজনও রয়েছে এখানে। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে টাওয়ারের পাশেই ২০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছে বৃহত্তম সুইমিংপুল, ২০ হাজার লোক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফ্যাশন স্কয়ার ও অত্যাধুনিক মানসম্পন্ন শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক। পার্কের ভেতরে রয়েছে চারদিকে পাকা বাঁধানো পুকুর।

চর কুকরী-মুকরী কুইন অব আইল্যান্ড

স্বপ্নদ্বীপ চর কুকরী-মুকরী। বঙ্গোপসাগরে জেগে থাকা এই চরটির কথা কে জানত? সেই চর কুকরী-মুকরীকে এখন বলা হয় ‘কইন অব আইল্যান্ড’। ভোলা জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা এই চর কুকরী-মুকরীতেই রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ম্যানগ্রোভ বনের অপূর্ব সৌন্দর্য পর্যটকদের বিস্ময়ে বুঁদ করে রাখে। ম্যানগ্রোভ বনের ভেতরে এঁকেবেঁকে গেছে স্বর্পিল লেক। আছে বালুকাময় তীর, সি-বিচ। হরিণসহ নানা বন্যপ্রাণীর ছোটাছুটি দেখার সুযোগ ছিল না এখানে। বঙ্গোপসাগরের মধ্যে থাকা দ্বীপটিকে দৃষ্টিনন্দন করে পর্যটকদের জন্য সাজিয়েছেন আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। পর্যটকদের কাছে লোভনীয় এই দ্বীপে ছিল না কোনো আবাসন সুবিধা। পর্যটকদের জন্য কুইন অব আইল্যান্ডে এমপি জ্যাকব গড়ে তুলেছেন ১৮টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, সুইমিংপুল, হেলিপ্যাড সমৃদ্ধ সর্বাধুনিক রেস্ট হাউস। এখন প্রতিদিনই শত শত পর্যটক চর কুকরী-মুকরীতে বেড়াতে আসেন।