প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে আজ বসছেন বি. চৌধুরী

Hasina-B-Chy.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুক্রবার (২ নভেম্বর) সংলাপে বসছেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এই সংলাপে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজ করবেন বি. চৌধুরী।

এ দলে আছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, সহসভাপতি মাহমুদা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজা, বিএলডিপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, জাতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নেতারাই আজকেও উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিলেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আলোচনা বেশ খোলামেলা হয়েছে। কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসবে। এতে আমাদের আপত্তি নেই।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনে সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। বরং নির্বাচন কমিশন যদি চায় তাহলে সহযোগিতা করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিচ্ছি। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

তিনি বলেছেন, ‘গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপে শেখ হাসিনা ধৈর্য্য ধরে সবার বক্তব্য শুনেছেন। আমাদের বক্তব্যও শালীনতার সঙ্গে বলা হয়েছে। আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে কাদের আরও বলেন, ‘যারা সভা-সমাবেশ করতে চাইবেন তারা করতে পারবেন। তবে রাস্তা বন্ধ করে নয়। এ জন্য মাঠে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

‘ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মনে করছেন কিছু মামলা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক মামলার তালিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’- বলেন ওবায়দুল কাদের।

এদিকে সংলাপ শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে কোন সমাধান পাওয়া যায় নি।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কথাগুলো আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছি, সব কিছু তুলে ধরেছি। আমাদের নেতৃবৃন্দ তাদের অভিযোগ, উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী লম্বা বক্তব্যে আমরা কোনো বিশেষ সমাধান পাইনি। তবে একটা ব্যাপারে, সেটা সভা সমাবেশের ব্যাপারে ভালো কথা বলেছেন।’

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে তারা সন্তুষ্ট নন।

উল্লেখ্য, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের সংলাপে ডাকার পরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দেন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সাড়া দেন।

তার প্রতিনিধি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় বারিধারার বাসভবন মায়াবীতে গিয়ে সংলাপের আমন্ত্রণপত্র বি. চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন। এতে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংলাপের জন্য তাদের গণভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।