দু’গ্রুপকে আলাদাভাবে ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি

Istema.jpg

ওয়ান নিউজঃ কক্সবাজারে ইজতেমা আয়োজন নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দু’গ্রুপকে আলাদাভাবে ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সা’দপন্থীদের আয়োজিত ইজতেমা বন্ধ দাবির প্রেক্ষিতে দেওবন্দপন্থী গ্রুপকে আলাদাভাবে ইজতেমার আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গতকাল জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর আলাদাভাবে ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি পায় দেওবন্দপন্থীরা। এই গ্রুপকে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগে থেকে ইজতেমার আয়োজন করা সাদপন্থীদের একদিন কমিয়ে আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর ইজতেমার আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারে আগামী কবিতা চত্বরে ৮, ৯ ও ১০ নভেম্বর ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিলো সা’দপন্থী গ্রুপ। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে নেমে পড়ে দেওবন্দ গ্রুপ। এই গ্রুপটি কয়েকদিন ধরে সা’দপন্থী গ্রুপের ইজতেমার বন্ধের জন্য নানাভাবে দাবি জানিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার তারা বিক্ষোভ সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দু’পক্ষকে আলাদাভাবে ইজতেমা আয়োজন করার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক। সা’দপন্থী গ্রুপের ইজতেমা হবে কবিতা চত্বরে এবং দেওবন্দ গ্রুপের ইজতেমা আয়োজন হবে ডায়বেটিকস পয়েন্ট।

এদিকে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপ মুখোমুখি হওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। গতকাল দেওবন্দ গ্রুপের বিক্ষোভের মুখে সারাদিন শহরে প্রচুর পুলিশ সদস্য অবস্থান নেয়।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দেওবন্দপন্থীরা সকালে তাবলীগ অনুসারীদের প্রথম প্রকাশ্য বিরোধের বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি পুলিশী পাহারায় স্টেডিয়াম সড়ক, শহীদ সরণি হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে কয়েক হাজার তাবলীগের অনুসারী বিক্ষোভ করে। আদালতপাড়ায় আগত লোকজন তাবলীগ জামাতের হঠাৎ এমন বিক্ষোভ দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। অনেকে বিরুপ মন্তব্যও করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বরে হাজারো বিক্ষোভকারী সাদপন্থিদের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও আগামী ৮, ৯, ১০ নভেম্বর ইজতেমা বন্ধ করার দাবী তুলে তারা।

দেওবন্দপন্থীরা দাবি করেছেন- ঈমান-আক্বিদা পরিপন্থী, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদানকারী ভারতের বিতর্কিত আলেম ও তাবগিগ জামাতের স্বঘোষিত আমির মাওলানা সা’দ অনুসারীদের ইজতেমার জন্য দেয়া অনুমতি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।