শ্রীলঙ্কায় চরম উত্তেজনা, ভয়াবহ রক্তবন্যার শঙ্কা

sri-lanka.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ শ্রীলঙ্কায় সৃষ্ট রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে দেশটিতে রক্তবন্যা বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে পার্লামেন্টে শিগগিরই সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া না হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সোমবার সতর্ক করেছেন তিনি।

দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহের অনুগত সংসদ সদস্যরা রাজধানী কলম্বো দখলে নিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানোর পর স্পিকারের এই সতর্কবার্তা এল। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমা সিংহেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে; এমন অভিযোগ এনে রাজধানীতে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার কারু জয়সুরিয়া। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শ্রীলঙ্কার এই স্পিকার বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্টে এই সমস্যার সমাধান করতে পারি…যদি এই সঙ্কটকে আমরা রাস্তায় নিয়ে যাই, তাহলে ভয়াবহ রক্তবন্যা শুরু হবে।’

ক্ষমতাচ্যুত এক মন্ত্রীর দেহরক্ষীর গুলিতে একজনের প্রাণহানির ঘটনার কথা উল্লেখ করে স্পিকার কারু জয়সুরিয়া বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করছে। এটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের দেশ ও অর্থনীতিকে পিছিয়ে নিয়ে যাবে।

এদিকে, দেহরক্ষীর গুলিতে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সরকারি এক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা অবরোধের হুমকি দেয়ার পর মন্ত্রী অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে সোমবার পুলিশি জিম্মায় নেয়া হয়েছে। তবে এই মন্ত্রী বলেছেন, অফিসে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়। এসময় দেহরক্ষী উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়েন।

ভারত মহাসাগরে অবস্থিতি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা চলতি সপ্তাহে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহেকে ক্ষমতাচ্যুত ও পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন তিনি। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে তার ক্ষমতার সময়।

প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালার এই সিদ্ধান্তের জেরে দেশটিতে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সঙ্কট শুরু হয়। সংসদ সচল করতে দেশীয় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মাইথ্রিপালা।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহের রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) সদস্য পাতালি চাম্পিকা রানাওয়াক বলেন, সোমবার পার্লামেন্টের ২২৫ সদস্যের মধ্যে প্রায় ১২৬ জন স্পিকারের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠিতে তারা পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

সূত্র : আলজাজিরা।