মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস

Home-Minister-3.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন ও পেথিড্রিন জাতীয় মাদকের ব্যবহার, পরিবহন, চাষাবাদ, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি বা বাজারজাত করার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড। মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রাম বা তার বেশি হলেই এই সাজা দেওয়া যাবে।

এই বিধান রেখে শনিবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮ সংসদে পাস হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

বিলের ওপর দেওয়া বিরোধী দলীয় সদস্যদের সংশোধনী, জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হয়।

জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করে জাতীয় পার্টির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, এটি নিষ্ঠুর আইন। ২৫ গ্রাম পরিমাণের মাদক পেলেই সাজা হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড। অনেক বাহক নিজেও জানে না সে হেরোইন বহন করছে। এর সঙ্গে পুলিশও জড়িত। ‘মৃত্যুদণ্ড’ বা ‘যাবজ্জীবন’ এর আগে সর্বোচ্চ বলে কোনো শব্দ নেই। যে কারণে বিচারকের পক্ষে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। বেশ কয়েকটি ধারায় এই শাস্তির কথা বলা আছে। সুতরাং আইনটি পাসের আগে জনমত যাচাই করা দরকার।

জবাবে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ১৯৯০ সালের আইনে বলা আছে, ৫০ গ্রাম মাদক পাওয়া গেলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। ১৯৯০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৯৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারোরই মাদক আইনে মৃত্যুদণ্ড হয়নি। তাই এবারের আইনে ইয়াবার ব্যবহারের বিষয় এবং মাদকে অর্থলগ্নিকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

আইনের ৯ ধারায় বলা আছে, অ্যালকোহল ব্যতীত অন্যান্য মাদকদ্রব্যের উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার হয় এমন কোনো দ্রব্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ, উৎপাদন, বহন, পরিবহন বা আমদানি-রপ্তানি, সরবরাহ, বিপণন, গুদামজাত, সেবন বা ব্যবহার, অর্থ বিনিয়োগ বা পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না। বিলের ৩৬ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি আইনের এই বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বহাল রাখার বিধান করা হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থাপন এবং প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে যে কোন স্থানে অধিদপ্তরের অধঃস্তন বা শাখা কার্যালয় স্থাপনের বিধান করা হয়।