এরশাদের ১৮ দফা

Ershad.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্স: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির ১৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

প্রাদেশিক সরকার গঠন করে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও পুনর্গঠন, সংখ্যালঘুদের জন্য জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে এই ১৮ দফা কর্মসূচিতে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’র মহাসমাবেশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

১৮ দফা হচ্ছে-

১. প্রদেশ ২.নির্বাচন পদ্ধতি ৩. পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ৪. সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষণ ৫. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ৬. ধর্মীয় মূল্যবোধ ৭. কৃষকের কল্যাণ সাধন ৮. সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা ৯. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ১০. ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না ১১. খাদ্য নিরাপত্তা ১২. শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন ১৩. স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ১৪. শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি প্রবর্তন ১৫. সড়ক নিরাপত্তা ১৬. গুচ্ছগ্রাম পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা ১৭. পল্লী রেশনিং চালু করা হবে ১৮. শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রগতি সাধন।

এরশাদ বলেন, এই ১৮ দফাই জনগণের মুক্তির পথ। আমরা প্রাদেশিক সরকারব্যবস্থা কায়েম করতে চাই। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করতে চাই। উপজেলা পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপ বাস্তবায়ন করব। সংখ্যালঘুদের সংসদে কোটা, ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা জাতিকে অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, আমি নতুন ভাবে ১৮ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছি, এটাই হবে মুক্তির পথ, এটাই হবে আমাদের ইশতেহার।

এর আগে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি, নির্বাচন হবে কি হবে না, জানি না। একটি দল সাত দফা দিয়েছে। সরকার মানতে চায় না। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তা মানা সম্ভবও না। এ অবস্থার মধ্যে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন কাজ করছে। তবে আমরা দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এর জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হয়তো হবে আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। শেষ জীবনে নিজেকে দেশ ও জাতির জন্য উৎসর্গ করতে চাই। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা চাই। নির্বাচনকালীন সরকার সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সমন্বয় গঠন করতে হবে। দেশের স্বার্থে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হতে পারে। সময়ের দাবি মেনেই আমরা পথ চলব।