”৭১’এর কন্ঠযোদ্ধা মহান এই গুণী শিল্পীর আকুতি কি প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছেনি”-শিউলী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
“কন্ঠযোদ্ধা আবদুল জব্বার বাঁচতে চায়”
মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর এভূবনে, মানবের তরে বাঁচিবার চাই। ১৬ কোটি বাঙালির কাছে ১টাকা করে সাহায্য চেয়ে সুন্দর এ পৃথিবীতে আরো কিছুদিন বাঁচার জন্য আকুতি জানিয়েছেন কিংবদন্তী শিল্পী কন্ঠযোদ্ধা আবদুল জব্বার।
জাতি হিসেবে আজ আমরা কতটা নীচে নেমে গেছি,কতটা নিকৃষ্ট,নষ্ট ও পঁচে গেছি, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। জীবিত মহান পুরুষদের আমরা সম্মান দিতে অপারগ। আর মৃত মানুষের কবরে হাজার টন ফুল দিয়ে আসি। বাহ বাঙ্গালীর সঃস্কৃতিতে গুনে ধরেছে মনেহয়।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন লাখো বাঙালির প্রতিনিধিত্বকারী সেই মহান কন্ঠযোদ্ধার সুকন্ঠী ধরাজ গলায় গাওয়া সেইদিনের সেই অনুপ্রেরণামূলক গানগুলি কি, বাংলাদেশের মানুষের ভুলে যাওয়া সম্ভব?

” সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্বরণে আমার হৃদয় রেখে দিতে চাই তাঁদের স্মৃতির চরণে-“যে এ গান হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছে তারপক্ষে অশ্রু সংবরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়াও জয় বাংলা বাংলার জয়, তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়, ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া, একবুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি কেন একা ঘুরে বেড়াও, মা ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে।
যার দরাজকন্ঠে এ সুমধুর প্রেরণামূলক গানগুলি শুনে তখন লাখো বাঙালির প্রাণ উথলে উঠেছিল, নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি তখন একত্রিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল।
আবদুল জব্বার তখন দেশের জন্য গান গেয়ে ভারত থেকে ১২ লাখ রুপি অর্জন করে সেই টাকা গুলি দেশের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। আজ তাঁর কঠিন দুঃসময়ে এ অকৃতজ্ঞ জাতির কি কিছুই করার নেই?
সেই টাকা যদি তিনি তাঁর নিজের জন্য ব্যাংকে রাখতেন তবে তৎকালীন সেই ১২ লাখ রুপি আজ বর্তমান মূল্যমানে কত কোটি টাকা হতো তা একটু চিন্তা করে দেখবেন কি?

তিনি সেই মহান শিল্পী যিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক ও বঙ্গবন্ধু পদকসহ নানান পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। পদক ভারে নুয়ে পড়া প্রতিভা আজ হাসপাতালের বিছানায় গড়াগড়া দেয়। আর মৃদু স্বরে উচ্চারিত করে, প্রধানমন্ত্রী কি জানে,আমি বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছি”।

হৃদয়ে রক্ত স্রোত দমকে দাড়ায়,এ কেমন আকুতি মৃত্যূ পথযাত্রী এক মহান শিল্পীর বেঁচে থাকার কতো অসহায় করুন ভাষা!!

তিনি আজ সাড়ে ১৬ কোটি অকৃতজ্ঞ মানুষের কাছে ১ টাকা করে হাত পেতেছেন। ছিঃ ঘৃণা ও ধিক্কার ছাড়া নিজেদেরকে আর কিছুই দিতে পারছিনা!

হে জননেত্রী, হে বঙ্গজননী, হে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার সুযোগ্য সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সময়ে বঙ্গবন্ধুর এ কণ্ঠসৈনিকের করুন আকুতি কি আপনার কানে এখনো পৌঁছেনি? নাকি পৌঁছাতে পারছেনা?

আবদুল জব্বার তাঁর মৃত্যুর পর ফুলশয্যায় শায়িত হতে চাননা, কোন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চাননা। তিনি চান আরো কিছুদিন দু’চোখ ভরে এ সুন্দর পৃথিবীকে দেখতে, তিনি চান বাঁচতে!!

বাঁচা-মরা মহান রাব্বুল আলামিনের হাতে। তিনি যার মৃত্যু যেভাবে নির্ধারণ করে রেখেছেন ঠিক সেইভাবেই হবে। তবে বেঁচে খাকার চেষ্টা তো কোন পাপ বা অতিরিক্ত কোন চাহিদা নয়।
সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১কোটি সহৃদয়বান মানুষের চেষ্টায় হয়তো এ মহান শিল্পীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে!!
তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আড়াই কোটি টাকা। এ আড়াই কোটি টাকা কি ১৬ কোটি বাঙালির জন্য খুব বেশী হয়ে যায়?

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। তিনি ততদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডের জন্মের ইতিহাস বেঁচে থাকবে।
কিন্তু তাঁর আকুতি যদি আমরা পূরণের চেষ্টা না করি,অর্থের অভাবে তিনি যদি সুন্দর এভূবন থেকে বিদায় নেন। তবে বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডে এমন গুণীব্যক্তি আর জন্মাবেনা মনেহয় ।
কারণ যেদেশে গুণীর কদর হয়না সেদেশে গুণী জন্মায়না। জন্মাবে স্বার্থপর ব্যক্তি যারা শুধুমাত্র নিজেদের চিন্তায় মগ্ন থাকবে। আর এটাই স্বাভাবিক। যে দেশ ও জাতি গুণীর কদর করবেনা সেদেশে কেন গুণী জন্মাবে?
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউ ২ তে পড়ে আছেন কালজয়ী এ শিল্পী।
সেখানে সাংবাদিকরা তাকে দেখতে গেলে তিনি তাদের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি এমন আকুতিভরা কন্ঠে জানান।
“আব্দুল জব্বার যদি জাতি গঠনের সংগ্রামে গান গেয়ে কোনো ভুমিকা রেখেই থাকেন তবে, ১৬ কোটি বাঙালি এক টাকা করে আমাকে সাহায্য দিক। তাতে আমার সুচিকিৎসা হবে। আমার দেহে স্থাপিত হবে দুটি কিডনি। তখন নিশ্চয়ই আমি বেঁচে যাব”
সকলের প্রতি অনুরোধ বেশি বেশি শেয়ার আর আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছায় আমাদের চেষ্টা । যে কাজটি বেশি পারবে দেশের মিডিয়া কর্মী ভাইরা। দয়া করে আপনারা এগিয়ে আসুন সকলে,একজন গুনী শিল্পীর পাশে দাঁড়ায়!!
__________________________________
প্রবন্ধ ও কলাম লেখক: মাহবুবা সুলতানা শিউলি,
মেম্বার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ,
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.