১৬ ওভারে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটে ১৩৬

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল:

জীবন পাওয়ার আগে-পরে দুই উইলিয়ামসন

স্টার্কের বলে হ্যাজলউডের হাতে তাঁর ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ার সময় ২১ বলে ২১ রান ছিল উইলিয়ামসনের। কিন্তু জীবন পাওয়ার পরে? ২১ বলে করেছেন ৫৬ রান!

১৭তম ওভারে উইলিয়ামসনদের রানে ‘কিছুটা’ বাধ দিতে পেরেছেন প্যাট কামিন্স। কোনো বাউন্ডারি আসেনি সে ওভারে, রান হয়েছে ৮টি। ১৭ ওভারে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটে ১৪৪।

এবার স্টার্কের ওভারে ২২ রান উইলিয়ামসনের!

মিচেল স্টার্ককে যেন পাড়ার বোলার মনে করাচ্ছেন উইলিয়ামসন। স্টার্কের করা আগের ওভারে, অর্থাৎ ১১তম ওভারে একবার জীবন পেয়ে ১৯ রান নিয়েছিলেন উইলিয়ামসন, ১৬তম ওভারে আবার স্টার্ক বোলিংয়ে আসতেই তাঁর ওপর চওড়া নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। শুধু চতুর্থ বলটাতে কোনো বাউন্ডারি হলো না।

প্রথম দুই বলে চারের পর তৃতীয় বলে স্টার্কের অফ কাটারকে পায়ের ওপর থেকে উড়িয়ে মারলেন স্কয়ার লেগের সীমানার ওপারে। শেষ দুই বলে আবার দুই চার। ওভারে এল ২২ রান! ১৬ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটে ১৩৬, উইলিয়ামসনের রান ৪২ বলে ৭৭!

স্টার্ক ৩ ওভারেই দিয়েছেন ৫০ রান!

শেষ পাঁচ ওভারে কত করবে নিউজিল্যান্ড?

উইলিয়ামসন আগ্রাসী ব্যাটিং করছেন, তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন চারে গ্লেন ফিলিপসও। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে জাম্পাকে ছক্কা মারেন ফিলিপস, পঞ্চম বলে দারুণ শটে মেরেছেন চার। ১৫ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ১১৪। ১০ ওভার শেষে ছিল ১ উইকেটে ৫৭, সেটি দ্বিগুণ হয়ে গেল ১৫ ওভার শেষে!

নিউজিল্যান্ডের ১০০

প্যাট কামিন্সের করা ১৪তম ওভারের পঞ্চম বলে ‘বাই’ এক রান নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ১০০ রান হয়ে গেল। ১৪ ওভার শেষে তাদের রান ২ উইকেটে ১০১। শেষ ৪ ওভারে ৪৫ রান নিয়েছে কিউরা, শেষ ৬ ওভারে ৬১। আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইলিয়ামসনই, ৩৫ বলে ৫৪ রান তাঁর।

টানা দুই ছক্কায় উইলিয়ামসনের ফিফটি

উইলিয়ামসন সম্ভবত আজ ঠিক করেই রেখেছেন, চার বা ছক্কা মারলে একসঙ্গে অন্তত দুটি করেই মারবেন! অষ্টম ওভারে মিচেল মার্শকে টানা দুই চারে আক্রমণ শুরু করেছিলেন, ওই দুই চারের আগে ৩২ বলে বাউন্ডারি পায়নি নিউজিল্যান্ড। এরপর স্টার্কের ওভারে একবার জীবন পেয়ে মারলেন টানা তিন চার।

মাঝে ১২তম ওভারে গাপটিল ফেরায় নিউজিল্যান্ড যদিও-বা কিছুটা হতাশ হয়ে থাকে, সেটি কেটে যাচ্ছে অধিনায়কের ব্যাটেই। ১৩তম ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে টানা দুই ছক্কা মারলেন উইলিয়ামসন! দ্বিতীয় ছক্কায় তাঁর অর্ধশতকও হয়ে গেল, মাত্র ৩২ বলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম অর্ধশতক এটি।

জাম্পা ফেরালেন গাপটিলকে

মিচেল স্টার্কের আগের ওভারে ১৯ রান নিলেন উইলিয়ামসন, কিন্তু কিউইদের উত্তেজনা পরের ওভারের প্রথম বলেই মিইয়ে দিলেন অ্যাডাম জাম্পা। তাঁকে উড়িয়ে মারতে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়লেন রান নিতে খাবি খেতে থাকা গাপটিল। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছিল, জাম্পার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের বড় অস্ত্র হতে পারেন গাপটিল, সেই গাপটিলই জাম্পার বলে ফিরলেন। ফিরলেন ৩৫ বলে ৩ চারে ২৮ রান করে।

ক্যাচ মিসে চার, তারপর চার, এরপর নো বলেও আবার চার

স্টিভ ওয়াহ কি দেখেছেন জশ হ্যাজলউডের ক্যাচ হাতছাড়া করার দৃশ্যটা? মিচেল স্টার্কের বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন উইলিয়ামসন, সহজ ক্যাচই ছিল। কিন্তু ফাইন লেগে থাকা হ্যাজলউড ক্যাচটা ধরতে তো পারেনইনি, উল্টো তাঁর হাতে লেগে হলো চার! কথিত আছে, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবসকে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপটাই ফেলে দিলে!’ হ্যাজলউড আজ ক্যাচ ছাড়লেন, তা-ও মাত্রই ছন্দ খুঁজে পেতে থাকা উইলিয়ামসনের। ক্যাচের সঙ্গে বিশ্বকাপটাও কি ফেলে দিলেন হ্যাজলউড? সময় বলবে।

আপাতত এতটুকু বলা যায়, উইলিয়ামসনকে আরও ভয়ংকর হতে ‘সাহায্য’ করেছেন হ্যাজলউড। আর মিচেল স্টার্ককে বানিয়েছেন ‘শাহিন শাহ আফ্রিদি!’ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই শাহিনের বলে ম্যাথু ওয়েডের ক্যাচ হাতছাড়া হয়, এর পরের তিন বলে মাথা ঠান্ডা রেখে বল করতে পারেননি পাকিস্তানের বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। পরের তিন বলে খেয়েছেন তিন ছক্কার মার, তাতেই ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। আজ শাহিন আফ্রিদির মতো তিন ছক্কা খাননি, তবে টানা তিন চারের মার খেয়েছেন স্টার্ক। এর মধ্যে তৃতীয় চারের সময় পিচে না পড়া বলটা উইলিয়ামসনের কোমরের ওপরে থাকায় হলো ‘নো বল।’ ফ্রি-হিট থেকে নিউজিল্যান্ড পেল আরও দুই রান। ওভারে এসেছে ১৯ রান। ১১ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৭৬।

টানা দুই চারে উইলিয়ামসন ঘোচালেন ৩২ বলের খরা

সেই যে চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে হ্যাজলউডের বলে চার মেরেছিলেন গাপটিল, এরপর নিউজিল্যান্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া। বাউন্ডারি আসেনি নিউজিল্যান্ডের, অস্ট্রেলিয়ানদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং আর ফিল্ডিং সাজানোতে এক-দুই রান নেওয়ার জায়গাও কমে গিয়েছিল। অষ্টম ওভার পর্যন্ত ৪৮ বলের মধ্যে ২৮টিই ডট পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া!

শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বাউন্ডারি-খরা ঘুচেছে অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনের ব্যাটে। নবম ওভারে মিচেল মার্শের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা দুই চার মেরেছেন উইলিয়ামসন। এর আগে ৩২ বলে কোনো চার বা ছক্কা পায়নি নিউজিল্যান্ড! উইলিয়ামসনের দুই চারের দ্বিতীয়টিতে নিউজিল্যান্ডের রানও পঞ্চাশ পেরিয়েছে।

দশম ওভারে জাম্পার ওভারে আবার কোনো বাউন্ডারি আসেনি। সেই ওভারে ৬ রান নিয়ে ইনিংসের প্রথম অর্ধেক, অর্থাৎ ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৫৭।

পাওয়ার প্লে-তে নিউজিল্যান্ড পেল ৩২ রান

প্রথম তিন ওভারে ২৩ রান করা নিউজিল্যান্ডের রানের গতিতে বাধা পড়েছে ড্যারিল মিচেল আউট হওয়ার পর। পরের তিন ওভারে কেইন উইলিয়ামসন ও মার্টিন গাপটিল নিতে পেরেছেন মাত্র ৯ রান। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৩২। এবারের বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে এটাই নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে কম রান। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড পাওয়ার প্লে-তে করেছিল ৩৬ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জশ হ্যাজলউড দারুণ বোলিং করেছেন, ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দেওয়ার পাশাপাশি তুলে নিয়েছেন মিচেলের উইকেট।

ওয়েডের হাতে ক্যাচ দিয়েই ফিরলেন মিচেল

আগের ওভারে ম্যাক্সওয়েলের বলে গাপটিলের ক্যাচ হাতছাড়া করা ওয়েডের ক্যাচেই পতন নিউজিল্যান্ডের প্রথম উইকেট। তবে ব্যাটসম্যান গাপটিল নন, মিচেল। হ্যাজলউডের স্লোয়ার বল মিচেলের ব্যাট ছুঁয়ে গেল উইকেটের পেছনে, ওয়েড এবার আর ক্যাচ নিতে ভুল করলেন না।

৮ বলে ১ ছক্কায় ১১ রান করে ফিরলেন মিচেল। ২৮ রানে ভাঙল নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি।

ক্যাচ হাতছাড়া করলেন ওয়েড

শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মিচেল স্টার্ককে চার মেরে শুরু করা মার্টিন গাপটিল দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজলউডের বলেও চার মেরেছেন একটি। তৃতীয় ওভারে স্পিন নিয়ে আসে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ওভারের প্রথম বলেই বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মেরেছেন ড্যারিল মিচেল।

ভাগ্যকেও পাশে পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাক্সওয়েলের ওভারের তৃতীয় বলেই গাপটিলের ব্যাটের নিচের পাশে লেগেছিল বল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার ম্যাথু ওয়েড কঠিন ক্যাচটা ধরতে পারেননি। তৃতীয় ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান বিনা উইকেটে ২৩।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:

মার্টিন গাপটিল, ড্যারিল মিচেল, কেইন উইলিয়ামসন, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, জিমি নিশাম, মিচেল স্যান্টনার, অ্যাডাম মিলনে, টিম সাউদি, ইশ সোধি ও ট্রেন্ট বোল্ট।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ:

ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ, মিচেল মার্শ, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, ম্যাথু ওয়েড, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, অ্যাডাম জাম্পা ও জশ হ্যাজলউড।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.