স্থানীয় পরিকল্পনাকারীর নির্দেশে চার নারী ধর্ষণ ও ডাকাতি

জে.জাহেদ বিশেষ প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় এক বাড়িতে ডাকাতি করে চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তুলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (চট্টগ্রাম)।

আজ সন্ধ্যা ৬টায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান এর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক ৪ পৃষ্টার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বিস্তারিত স্বীকার করেন ধৃত আবু শামা।

এ বিষয়ে সিএমপি বন্দর জোনের এসি নির্মল জানান, আসামী আবু সামা স্বীকার করেছে সে ঘটনার সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জড়িত এবং ঘটনার দিন রাতে বাড়ির বাহিরে অপেক্ষারত ছিলেন।

আসামীর ভাষ্য বলে পুলিশ গনমাধ্যমকে জানায়,এ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে স্থানীয় আরো তিন জন জড়িত ছিলেন।

যাদের একজন মুল হোতা ও দুজন অপরিচিত। তবে পুলিশের কাছে দুজনের তথ্য দিয়েছে সামা।

মূল ঘটনার সাথে কতজন জড়িত এমন প্রশ্নে পুলিশ জানান, আবু শামার তথ্যমতে ওরা ৬জন জড়িত।

তার মধ্যে বাসায় প্রবেশ করেছিলো ৪জন,১জন বাহিরে অপেক্ষামান ও ১জন মুল পরিকল্পনাকারী। যিনি পর্দার আড়ালে এখনো।

গ্রেফতারকৃত আবু শামা (৪৫) পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁওয়ের বাসিন্দা বলে যায়। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান আহমেদ নুর তা নিশ্চিত হয়ে জানাতে পারেননি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম শহর থেকে আবু সামা নামে ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে তারা গ্রেপ্তার করেন।

এবং ‌’জবানবন্দিতে মিজান মাতুব্বর বলেছে, সামার পরিকল্পনায় ডাকাতি হয়েছিল। তবে সামা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেনি, বাইরে অপেক্ষায় ছিল”।

তবে আদালতে আজ ১৬৪ ধারায় তথ্য দেন সামা মুল পরিকল্পনাকারী নন। বরং স্থানীয় আরেকজন ছিলেন।

এদিকে ঘটনার ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো মূল হোতা ও ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার করতে না পারায় ধর্ষিত পরিবার আতংকে রাত্রিযাপন করছে বলে জানা যায়।

গত ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ওই বাড়িতে ডাকাতির সময়ই তিন প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রী ও তাদের এক বোনকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

কর্ণফুলী থানা পুলিশ ও বন্দর ডিসি সংবাদ সম্মেলনে আংশিক গাফলতি কথা স্বীকার করলে,পরে সদর দপ্তরের নির্দেশে মঙ্গলবার মামলার তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে।

পিবিআই সকালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিকালে তারা মিজান মাতুব্বর ও রাতে আবু সামাকে গ্রেফতার করে।

যদিও এর আগে কর্ণফূলী থানা পুলিশ আবু, ফারুকী ও বাপ্পী নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠান।

সর্বশেষ এ ঘটনায় ৫ জন আসামী গ্রেফতার হলেও বাদীপক্ষ একজন ছাড়া বাকিদের সনাক্ত করতে পারেনি। তবে মুখোমুখির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বর্তমানে ভিকটিম পরিবার নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে কোন গনমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হচ্ছেনা বলে জানা যায়।

তবে স্থানীয় মহল এ ঘটনায় গভীর রহস্য উদঘাটন এখনো বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।

পুলিশ তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ না করা বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান।

Comments are closed.