স্কুলড্রেস পরে ঘুরাঘুরি করলেই ধরবে পুলিশ
ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ রাজধানীর উত্তরায় কিশোর ও উঠতি তরুণদের ‘গ্যাং কালচার’ ঠেকাতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। স্কুলের সময়ে বা অন্য কোনো সময়ে কিশোরদের আড্ডা দিতে দেখলেই তাদের ধরে জেরা করা হচ্ছে। তাদের স্কুলে বা বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এসব কিশোরদের চুলের স্টাইলও স্বাভাবিক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অস্বাভাবিক কোনো আড্ডায় কিশোরদের পাওয়া গেলে তাদের ধরে অভিভাবকদের কাছে তুলে দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে উত্তরার ৬টি থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ক্লাশ চলাকালীন সময়ে স্কুলের পোশাক পড়ে কাউকে শপিং মল বা রাস্তার পাশে আড্ডা দিতে দেখা গেলেও ধরে থানায় নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উত্তরা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার বিধান ত্রিপুরা জানিয়েছেন, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় স্কুল চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি স্পটে ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। পুলিশ বিষয়টি নিবিড় নজরদারি করছে। যারা স্কুল ফাঁকি দিয়ে ইউনিফর্মে ঘোরাফেরা করবে তাদের থানায় আনা হবে।
উপ কমিশনার বিধান ত্রিপুরা বলেন, স্কুল চলাকালীন যারা বাইরে আড্ডা দেবে, ঘোরাফেরা করবে তাদের ধরে থানায় আনা হবে। পরে তাদের বাবা-মা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হবে। গত ৬ জানুয়ারি উত্তরায় হকিস্টিক ও রড দিয়ে পিটিয়ে আদনান কবির নামে এক কিশোরকে হত্যা করা হয়। কিশোরদের গ্যাং কালচারের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই স্কুল শিক্ষার্থীরা যাতে গ্যাং কালচারের নামে বিপথে না যায় সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্যাং কালচারের নামে সামাজিক বিচ্যুতি প্রতিরোধে উত্তরা এলাকার ছাত্র-অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সব স্তরের লোকজনকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
আদনান হত্যা মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে উপ কমিশনার বিধান ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ ও র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের কথায় মোট ১২ জনের নাম উঠে এসেছে। তবে আদালতে জবানবন্দি দেওয়া পাঁচজনের কেউই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, উত্তরা এলাকার স্কুল-কলেজ ও কোচিং সেন্টারের এক শ্রেণির উঠতি তরুণ ছাত্ররা ডিসকো বয়েজ উত্তরা, নাইটবার গ্রুপ, সেভেন স্টার গ্রুপ, নাইন এএম বয়েজ উত্তরা, বিগ বস ইত্যাদি নামে ফেসবুক পেজ খুলে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। যা অনেক সময় সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসব গ্রুপে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাড়াও নানা পেশার উঠতি তরুণদেরও দেখা গেছে। এসব গ্রুপের সদস্যরা চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে না জড়ালেও এরা বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও ফেসবুকে নিজেদের হিরোইজম দেখানোর চেষ্টা করে। যা এক সময় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।
উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ রোকনুজ্জামান সমকালকে বলেন, গত দুই দিনে তিনি তার এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দেওয়ার সময় শতাধিক ছাত্র ও কিশোরৃকে ধরেছেন। তাদের নানাভাবে বুঝিয়ে চুলের স্টাইল ও পোশাক পরিচ্ছদ ঠিক করতে পরামর্শ দিয়েছেন। পড়ালেখা ও খেলাধুলায় মনোযুগী হতে বলেছেন। বেশ কয়েকজনকে তাদের অভিভাবক ডেকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.