সিইসি প্রধানমন্ত্রীর হুকুম তামিলকারী : রিজভী

ওয়ান নিউজঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনকে ঘিরে যে সংলাপ চলছে তা কেবলই আইওয়াশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন না, বরং প্রধানমন্ত্রীর হুকুম তামিলকারী হিসেবে কাজ করছেন।’

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আগেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের ভোটারসংখ্যা, জনসংখ্যা, মোট আয়তন ও প্রশাসনিক অখ-তার সমন্বয়ের মাধ্যমে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের বিধান রেখে একটি আইনের খসড়া করেছে ইসি। গত রোববার এক সভায় খসড়াটি উপস্থাপন করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলে আসছি সিইসি হিসেবে কে এম নুরুল হুদার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে সব উদ্যোগ-আয়োজন করা হয়েছে, তা তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ীই করছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকটি রানৈতিক দলের সঙ্গেও সংলাপ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ না হতেই সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।’

প্রভুকে খুশি করতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করা তিনি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন না। এ জন্যই তিনি কারো মতামতকে তোয়াক্কা না করে সরকার প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে যে পরামর্শগুলো উঠে আসছে সেগুলোকে তিনি গ্রহণ করতে পারছেন না।’

‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সেনাবাহিনী মোতায়েন ও তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদান, নির্বাচনের পূর্বেই সংসদ ভেঙে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে বৈঠকের ঐসব মতামতকে সিইসি আমলে নিচ্ছেন না,’ যোগ করেন তিনি।

অপহরণ গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলশূন্য করার জন্য এতদিন যাদের দিয়ে গুম করানো হয়েছে তাদের প্রতি সরকার কৃতজ্ঞ। সরকারের সমর্থনে গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারহীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সে জন্য ঈদের প্রাক্কালে বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ব্যাংকারদেরও গুম করা হচ্ছে; শুধু টাকা আদায়ের জন্য। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিগুলোই গুমের মতো পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমানকে গুম করার পরও থানায় সাধারণ ডায়েরি নিচ্ছে না পুলিশ। রাষ্ট্রকেই এর জন্য একদিন জবাবদিহিতা করতেই হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, আজিজুল বারি হেলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.