সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ পালনে যে শর্তগুলো জরুরি

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত একাধিক স্থানে কিছু নিদর্শনের স্মৃতি বিজড়িত কাজকে বার বার সম্পাদনের মাধ্যমে মূল ঘটনাকে স্মরণ করার নাম হজ। সাফা এবং মারওয়া পাহাড় দুটির মাঝে ‘সাঈ’ও তেমিন একটি নিদর্শন। যেখানে ‘সাঈ’ হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য ওয়াজিব তথা আবশ্যক।

‘সাঈ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম ও মা হাজিরার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ঘটনা। যা আল্লাহ তাআলার নিকট ছিল খুবই পছন্দনীয়। আর তাই আল্লাহ তাআলা সাফা মারওয়ার দৌড়াদৌড়িকে মুসলিম উম্মাহর হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশিত পন্থায় ‘সাঈ’ সম্পন্ন করতে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। যা তুলে ধরা হলো-

সাঈ’র স্থান
পবিত্র কাবা শরিফের অদূরে সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় অবস্থিত। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাঈ’র রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও শিক্ষা। এ কারণেই হাজিদের জন্য সাফা মারওয়ার মধ্যকার সাঈ’র কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে উত্তম ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। সুতরাং মুসলিম উম্মাহকে সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ আদায় করতে হবে। সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে সাঈ করলে তা আদায় হবে না।

‘সাঈ’-এর শর্ত
>> পুরুষ এবং মহিলাকে স্বশরীরে ‘সাঈ’ করতে হবে। এমনকি পায়ে হেঁটে সাঈ করতে অসামর্থ হলে বাহনে করে সাঈ করতে হবে। একান্ত ওজর বা অজ্ঞান ব্যতীত কেউ কারো সাঈ আদায় করতে পারবে না।

>> তাওয়াফ করার পর সাঈ করতে হবে। তবে তাওয়াফ পূর্ণ ৭ চক্করের পরই করতে হবে অথবা অধিকাংশ চক্কর সম্পন্ন করার পর এ সাঈ সম্পন্ন করতে হবে।

>> ‘সাঈ, কার আগে (হজ বা ওমরার) ইহরাম বাঁধতে হবে।

>> ‘সাঈ’ সাফা পাহাড় থেকে আরম্ভ করতে হবে। কেননা কুরআনে আল্লাহ তাআলা সাফা পাহাড়ের কথা আগে বলেছেন।

>> নির্ধারিত সময়ে সাঈ করা। হজের সাঈ’র জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাফা ও মারাওয়া পাহাড় দুটির মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ আদায় করার শর্তগুলো যথাযথ পালন করে হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব কাজটি সম্পাদন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.