সরকার বিচার বিভাগের প্রতিপক্ষ : ফখরুল

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অর্থমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে কথা বলেছেন এটা খুব পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, এ সরকার এখন বিচার বিভাগের প্রতিপক্ষ হিসেবে একটা অবস্থান নিয়েছে।’ পুরান ঢাকার ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচতলায় বুধবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, এ রায়ের যে অবজারভেশন এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের কথা, অন্তরের কথা, হৃদয়ের কথা এবং সেটাই তারা (সুপ্রিম কোর্ট) বলেছেন, উচ্চারণ করেছেন। সুতরাং দেশের ১৬ কোটি মানুষ এ রায়ের অবজারভেশনের সঙ্গে আছে এবং তারা একমত।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে মন্ত্রিসভার প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘এ রায় ও অবজারভেশন দেওয়ার পরে মন্ত্রিসভায় যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের কিছু মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা যে ভাষায় কথা বলছেন, আমি জানি না আপনারা (আইনজীবীরা) ভালো বলতে পারবেন তা আদালত অবমাননার দায়ে পড়ে কিনা? তারা (সরকার) সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের যে প্রধান তিনটি স্তম্ভ, সেই স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছে। আপনারা দেখেছেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে পার্লামেন্টে একটা বিরোধ তারাই (সরকার) তৈরি করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকারের যদি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস থাকতো, এ সরকারের যদি ন্যূনতম একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনার ইচ্ছা থাকতো তাহলে সেই দিনই তারা পদত্যাগ করতো। কারণ তাদের আর এ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিকতা নাই। আমরা বার বার বলেছি, এখনো বলছি, আপনারা অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, নৈতিক অবস্থার কারণে পদত্যাগ করে একটি সহায়ক সরকারের হাতে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যে নির্বাচন হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সকলে সেখানে অংশ গ্রহণ করবে।’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। আপিল বিভাগকে সংবিধানের অভিভাবক বলা হয়। সংবিধানের যেখানে যেখানে ক্রটি থাকে অথবা যে আইনগুলো সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয় আপিল বিভাগ সেই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মতামত প্রদান করেন। সংসদে যে আইনগুলো পাস হয়েছে, সংবিধান যে সংশোধন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে ইতোপূর্বেও আপিল বিভাগ তার মতামত প্রদান করেছেন। জনগণের যেটা প্রাপ্য, জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা সেটাই তারা বলেছেন।’

বাংলাদেশের বর্তমান যে রাজনৈতিক অবস্থা তা ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের মধ্যে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে—এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে কথাটি সবচেয়ে বেশি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ করেছে তা হচ্ছে যে, এ শাসকরা এখন দৈত্যে পরিণত হয়েছে। তাদের দায়িত্ব ছিলে গণতন্ত্রকে রক্ষা করবার, সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা না করে তারা মনস্টারে পরিণত হয়েছে, দৈত্যে পরিণত হয়েছে। ধ্বংস করে দিচ্ছে সব কিছু।’

তিনি বলেন, ‘শুধু এইটুকু বলতে চাই, এ সরকার যত বেশিদিন থাকবে, ততই বাংলাদেশ অতলগহবরে যাবে, রসাতলে যাবে। গত কয়েকদিনের খবরের কাগজে দেখবেন, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতি হয়েছে, কীভাবে ধর্ষণ বেড়েছে, কীভাবে খুন বেড়েছে। দেখেছেন কীভাবে সমস্ত আইন অমান্য করে এ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নিজেরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে মানুষকে হত্যা করছে।’

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন—জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সানাউল্লাহ মিয়া, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা আইনজীবী সমিতির বোরহান উদ্দিন, মহসীন মিয়া, মকবুল হোসেন ফকির, আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান, গোলাম মোস্তফা খান, খোরশেদ মিয়া আলম, মোসলেহ উদ্দিন জসিম ও ওমর ফারুক ফারুকী প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.