“সরকার দরিদ্র মায়েদের কথা চিন্তা করে যে ভাতা প্রদান করছেন,সেটার যথাযোগ্য ব্যবহার করলেই সুফল মিলবে”- ইউএনও কর্নফুলী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কর্ণফূলীতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মহিলা অধিদপ্তর কর্তৃক দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালিন ভাতা প্রদান ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন প্রকল্প প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। গত ৬ই জুন কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নে অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্টান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহ্সান উদ্দিন মুরাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতদরিদ্র মায়েদের উদ্দেশ্যে ইউএনও মুরাদ বলেন,” সরকার দরিদ্র মায়েদের কথা চিন্তা করে যে ভাতা প্রদান করছেন আপনারা সেটার যথাযোগ্য ব্যবহার করলেই এর সুফল মিলবে। আপনারা সন্তান লালন পালনে তথা জাতি গঠনের গুরু দায়িত্ব পালন করছেন”। এ সময় তিনি সন্তানদের যথেষ্ট দেখভাল করাসহ দরিদ্র সন্তানকে আগামীর জন্য গড়ে তুলতে সুস্থ থাকা ও শিক্ষার বিকল্প নেই বলে জানান। উপজেলা প্রশাসন সুত্রে নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে এখন সপ্তাহের প্রতি শনিবার একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বসেন। যদিও এতোদিন অজ্ঞাত কারনে এই সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এলাকাবাসী। সদ্য নিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসব কেন্দ্র পরিদর্শন করে এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করেন। এখন থেকে যেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কতৃক প্রদত্ত সকল সেবা নিশ্চিত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়,অনুষ্ঠান শেষে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া চৌধুরী ইউএনও কে প্রশিক্ষণ ও সম্মানি ভাতা ৮০০ করে দুই সেশনে ১৬০০টাকা দিতে গেলে কর্ণফূলী ইউএনও ট্রেনিং সেশনে উপস্থিত ছিলেন না বলে সম্মানি নিতে অস্বীকৃতি জানান। ইউপি সদস্য সূত্রে পাওয়া এমন খবরের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া চৌধুরী জানান, অনুষ্ঠানটি দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা সেশন। যদিও ইউএনও স্যার আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে দরিদ্র মায়েদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কিন্তু প্রশিক্ষণ সেশনে ছিলেন না বলে ভাতা গ্রহনে অস্বীকৃতি জানান। এ ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আহ্সান উদ্দিন মুরাদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এটা আসলে তেমন কোন বিষয় না। সততা আলাদা কোন গুণ না, সৎ থাকতে হবে এটাই নৈতিকতা। এই ধরনের ছোটখাট অনিয়ম অভ্যাসে পরিণত হয়ে, বড় অনিয়মের দিকে ধাবিত করে মানুষকে। যথাসম্ভব এগুলো আমাদের পরিহার করা উচিত”। এক পর্যায়ে উপস্থিত সকল দরিদ্র মায়েদের এবং তাদের সন্তানদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন সভাপতি আতিয়া চৌধুরী।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.