সমতাভিত্তিক ও স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব নীতিমালা প্রণয়নে সরকার ও সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রতি স্থানীয় নাগরিক সমাজের আহ্বান

বিডিসিএসও প্রসেসের বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে দাতা সংস্থাগুলোর ঔপনিবেশিক মানসিকতার সমালোচনা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত সরকার, জাতিসংঘ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একটি স্বচ্ছ ও নীতিমালা ভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, কারণ এটি স্থানীয় জাতীয় এনজিও সিএসও বিকাশের সহায়ক।
সোমবার (২৫ অক্টােবর) এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তাগণ এসব অভিমত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ এনজিও-সিএসও কো-অর্ডিনেশন প্রসেস (বিডিসিএসও প্রসেস)-এর বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আয়েজিত ‘একটি কার্যকর নাগরিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নীতিমালাভিত্তিক অংশীদার নির্বাচনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে স্থানীয় এনজিও ও সিএসওর জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় ও জাতীয় প্রায় ৬০০ এনজিও-সিএসও-এর নেটওয়ার্ক, বিডিসিএসও আয়েজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নারী পক্ষের শিরীন হক, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেনেভাভিত্তিক গ্লোবাল মেনটরশিপ ইনিশিয়েটিভএর প্রতিষ্ঠাতা স্ম্রুতি প্যাটেল। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. মজিবুল হক মনির এবং ফেরদৌস আরা রুমীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন এডাবের একেএম জসিম উদ্দিন, ইপসার আরিফুর রহমান, সিসিএনএফ ও পালস’র আবু মুর্শেদ চৌধুরী, আইসিডিএর আনোয়র জাহিদ, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার খোন্দকার ফারুক আহমেদ, জিবিএসএস’র মাসুদা ফারুখ রত্নভ, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার রফিকুল ইসলাম এবং বিএনএনআরসি’র এএইচএম বজলুর রহমান। দেশের বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল এনজিও-সিএসও নেতৃবন্দ এতে বক্তৃতা করেন।
শিরীন হক বলেন, নেপাল কখনই কোনো বিদেশি শক্তির উপনিবেশ ছিল না, মূলত সেই চেতনা দ্বারা শক্তিশালী হয়েই তারা নিয়ম তৈরি করেছে যে, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা, তা জাতিসংঘ বা আইএনজিওই যাই হোক না কেন, স্থানীয় সরকার বা স্থানীয় এনজিওর অংশীদারিত্ব ছাড়া সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশী স্থানীয় এনজিওগুলো এখন যথেষ্ট পরিপক্ক হয়েছে, আর একারণেই সরকারসহ সকল পক্ষের উচিৎ বিদেশী সহায়তা নির্ভর মানবিক ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি অংশীদারিত্ব নীতিমালা প্রণয়ন করা।
স্ম্রুতি প্যাটেল বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীজনদেরকে স্থানীয় এবং জাতীয় সংস্থাগুলোর সাথে সম্পূরকতা এবং সংহতিপূর্ণ অংশীদারিত্ব থাকা উচিত, অংশীদারিত্বকে হতে হবে একে অপরের ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার উপর ভিত্তি করেও। দশকের দশকের ধরে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনেক কিছুই করা হয়েছে, এখন তাই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আর সক্ষমতা ঘাটতির দিকে মনযোগ দেওয়া উচিৎ নয়।
একেএম জসিম উদ্দিন দুটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সংস্থাকে সাব-কন্ট্রাক্টর বা বিক্রেতা হিসাবে বিবেচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশী সাহায্যের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য আমাদের সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত, এই বিষয়গুলোতে তাদের অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে।
রফিকুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকেই অংশীদার বাছাই করে রাখে। বাংলাদেশে অধসা বৈদেশিক সাহায্যের একটি বড় অংশই আবার দেশ থেকে সাহায্য আসে সেখানে ফিরে যায়, নইলে বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যয হংে যায়। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যদের উচিৎ জাতীয় সংসদে বিষয়টি তুলে ধরা। মাসুদা ফারুক রত্না বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দাতাসংস্থাগুলোর সংস্থাগুলির অবশ্যই একটি স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব নীতিমালা থাকতে হবে, যা তাদের কর্মীদের স্বার্থে দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত এবং এর বাস্তবায়নেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তহবিলের ২৫% সরাসরি স্থানীয় এনজিওগুলিকে দেওয়ার কথা, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতির খুব কমই তারা পূরণ করেছে। রোহিঙ্গা কর্মসূচির ৯৫% তহবিল পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ। অন্তর্র্জাতিক সংস্থাগুলো কক্সবাজারে বাইরে থেকে প্রচুর এনজিও এনেছে, তহবিল না থাকলে তারা সটকে পড়বে, এটি জবাবদিহিমূলক এবং টেকসই স্থানীয় সুশীল সমাজ গঠনের চেতনার পরিপন্থী।
এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, দাতারা স্থানীয় পর্যায়ে সাহায্য ব্যবহারে একটি বাণিজ্যিকীকরণ এবং একচেটিয়াত্বের সংস্কৃতি তৈরি করছে, যা আমাদের মধ্যে মানবিক, উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র বিকাশে বিকেন্দ্রীভূত নাগরিক সমাজ সংগঠন তৈরির জন্য খুব উপযুক্ত নয় এবং প্রতিযোগিতামূলক ও নয়।

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.