সদর-রামু আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল চূড়ান্ত

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছে।

লুৎফুর রহমান কাজল বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

সদর-রামু আসনে কাজল ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি প্রকৌশলী মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনটি জেলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় সব রাজনৈতিক দলের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিদর্শন এখানে রয়েছে। রামুতে সেনানিবাস, বৌদ্ধমন্দিরসহ অনেক পুরাকীর্তি বিদ্যমান। দেশের পর্যটন শিল্পের সিংহভাগ রাজস্ব আসে এই আসন থেকে।

এই আসনে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে পর্যটন শিল্প বিকাশ ও এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬২ হাজার ৬৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ৯৯ জন ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৭৬ হাজার ৫৩৭ জন। কক্সবাজার সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ভোটার রয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার ৮৩৫ জন। রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৩৯ হাজার ৮১০।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) বরাবরই বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত টানা চারবার এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইসচেয়ারম্যান ও বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান রয়েছেন। সেহিসেবে এই আসনে বিএনপি-জামায়াত জোটের শক্ত অবস্থান।

কক্সবাজার-৩ আসনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করে।

তবে, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে সদর-রামুতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, লুৎফুর রহমান কাজল ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। দিক নির্দেশান দিচ্ছেন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি জামায়াতসহ জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। নির্বাচনের কৌশলে নির্ধারণ করছেন। খুব অল্প সময়ে সবার সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতাকে সদর-রামু আসনে টেক্কা দিতে পারে এমন প্রার্থীও নেই মনে করে তৃণমূল। সদালাপী হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষ সহজেই যোগাযোগ করতে পারায় সর্বসাধারণের কাছে তাঁর রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সদর-রামুতে সহিদুজ্জামান বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তার পরও বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন লুৎফুর রহমান কাজল। কিন্তু দীর্ঘদিন তিনি ক্ষমতার বাইরে থাকলেও কোন সময়ের জন্য নিস্ক্রিয় হননি। দুর্যোগ-দুঃসময়ে ‘বটগাছ’ হয়ে থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের। এক মুহুর্তের জন্যও মাঠ ছাড়েননি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। এসব কারণে দলের মনোনয়ন তাকে দেয় দলের হাইকমান্ড। নির্বাচনেও মানুষ তাকে মূল্যায়ন করবে- এমটি প্রত্যাশা দলটির।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.