সংবিধান কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না: রিজভী

ওয়ান নিউজঃ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংবিধান কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ মন্তব্য করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলের সামনের সড়কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান ও নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। এ সময় তিনি বলেন, ভারতের তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী পদের কাছাকাছি গিয়েও শশীকলা নটরাজন কারাগারে গেছেন। সে জন্য সেখানকার কোনো কিছু থেমে থাকবে না।

ওবায়দুল কাদেরের উল্লিখিত বক্তব্যের একদিন পর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, নির্বাচন নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র ও অশুভ পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না। সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন করার যেকোনো অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দেবে। সংবিধান কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে এটি সংশোধিত হতে পারবে না। তাই দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, বিএনপির চেয়ারপারসন ও তাঁর দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না, বলেন রিজভী। কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র টিকবে না। আগামি নির্বাচন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হবে এবং বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, যোগ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামি নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বহুমুখী নীলনকশা প্রতিহত করা হবে। নির্বাচনী বহুমুখী প্রকল্প করেছেন। এই প্রকল্প সফল হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। বহুমুখী প্রকল্পটা হচ্ছে একটি দলীয় সরকারের অধীনে দলীয় লোকজনের মারফতে নির্বাচন পরিচালনা করা, বলেন খসরু। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখার একটা চেষ্টা।

আপনাদের এই বহুমুখী প্রকল্প কাজে আসবে না। বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠবে গণতন্ত্রের পক্ষে, যোগ করেন খসরু। বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যে দাতা সংস্থাটির সঙ্গে দেশের সম্পর্কের অবনতি ও চলমান অনেক প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপি নেতারা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.