শিবিরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

ওয়ান নিউজঃ দালাল কিংবা পুরনো রোহিঙ্গাদের সাহায্যে কক্সবাজার শহরের আবাসিক এলাকাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নেয়ার পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গল কেটে অস্থায়ী বস্তি গড়ে তুলছে রোহিঙ্গারা। কক্সবাজার পৌর মেয়রের দাবি, নতুন করে কক্সবাজার শহরে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা।

তবে পুলিশ বলছে, ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট স্থানে ফেরত পাঠানোসহ তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে তারা।

গত এক সপ্তাহে কক্সবাজার শহরের ইসলামপুর পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা পাঁচশো’র বেশি রোহিঙ্গা। শুধু ইসলামপুর নয়, কক্সবাজার শহরের বৃহত্তর পাহাড়তলী, সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, কলাতলীসহ ২০টির বেশি পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা। স্থান, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে শহরমুখী হচ্ছেন তারা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা সময় নিউজকে বলেন, সেখানে আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হত। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমরা এখানে পালিয়ে এসেছি।

রোহিঙ্গারা এসব এলাকায় আশ্রয় নেয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা। দালাল ও পুরনোদের সাহায্যে এসব রোহিঙ্গারা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়রা বলেন, এখানে থাকা পুরাতন রোহিঙ্গাদের অনেকে নতুনদের নিয়ে আসছে। তারা কেউই আমাদের পূর্ব পরিচিত না হওয়ায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা। তারা এভাবে এখানে অবস্থান করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

এদিকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া সব রোহিঙ্গাকে নির্ধারিত স্থানে ফেরত পাঠাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী সময় নিউজকে বলেন, কিছুদিন পর এখানে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পাবে। রোহিঙ্গারা এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

টেকনাফ ও উখিয়া থেকে রোহিঙ্গারা যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে যেতে না পেরে সে জন্য বিভিন্নস্থানে চেকপোস্ট স্থাপনসহ সব রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল সময় নিউজকে বলেন, যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসেছে তাদের পর্যায় ক্রমে উখিয়ায় বরাদ্দকৃত স্থানে স্থানান্তর করা হবে।

পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম, বান্দরবন, ফেনী, যশোর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছে উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.