শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালো স্কুল কর্তৃপক্ষ

ডেস্ক নিউজ:
৫৪৩ দিন পর আজ রোববার খুললো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে সরকারিভাবে নির্দেশনা ছিল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধিরি ওপর সর্বোচ্চ নজরদারির। তবে উত্তর কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানলেও গেটে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ভিন্ন চিত্র। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথমদিন হওয়ায় সেখানে গিয়েছিলেন ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলীর কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। তিনি গেটে প্রবেশ করতেই এক ছাত্রী থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে ওই কাউন্সিলরের শরীরে তাপমাত্রা পরীক্ষা করছে। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলর ছাড়াও ওই স্কুলে প্রবেশ করা সকল শিক্ষার্থীদেরও শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছিল ওই ছাত্রী। আর ওই ছাত্রীর পেছনে অপর এক ছাত্রী সানিটাইজার নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) উত্তর কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজে দেখা যায় এমন চিত্র। অথচ নিয়মানুযায়ী স্কুলে প্রবেশ করা সব শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপামাত্রা পরীক্ষা করার কথা ছিল স্কুলের দারোয়ান, দপ্তরি বা সংশ্লিষ্ট কেউ। তবে স্কুল শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন কাজ করানোকে নিছক লোক দেখানো বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।

অবাক করা এই কাজ করা হলেও দায়িত্বশীল পদে থেকেও স্থানীয় কাউন্সিলর ও চসিকের শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. নেছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু আবার ছাত্রীদের দিয়ে নিজের শরীরের তাপমাত্রা মাপার একটি ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন। যদিও সিভয়েসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলছেন, ছাত্রীদের দিয়ে তাপমাত্রা মাপার বিষয়টি উচিত হয়নি। তিনি স্কুলের শিক্ষকদের তা দেখে বারণ করেছেন।

অন্যদিকে নিউজ না করার অনুরোধ করে চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার বলেছেন, বিষয়টি একেবারেই অনুচিত। আমি এখনই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন করছি। তারা এমন কাজ করতে পারেন না।

যদিও উত্তর কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলছেন, ‘এটা ক্ষণিকের জন্য হয়েছিল। মূলত যারা করেছিল তারা গার্লস গাইডের সদস্য। অনুশীলনের অংশ হিসেবেই কয়েক মিনিটি তারা স্বেচ্ছা সেবকের কাজ করে আবার ক্লাসে ফিরেছেন। বাকি সময় শিক্ষকরাই এসব কাজ করেছেন।’

করোনার ছোবলে ৫৪৩ দিন আগে গত বছর ১৭ মার্চ সরকার দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে অবশেষে ১৬ দফা নির্দেশনা মেনে অবশেষে আজ (রোববার) থেকে খোলা হয় স্কুল কলেজ ও মাদরাসা।

চসিকের শিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা দেওয়ার পর থেকে চসিকের পরিচ্ছনতা বিভাগের ৮৮টি স্কুল, ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৩টি কলেজ, ৭টি কিন্ডার গার্টেন, ৪টি কম্পিউটার ইন.কলেজ, ৩টি নৈশ বিদ্যালয়, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩শ’টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ২টি গীতাশিক্ষা কেন্দ্র, ১টি গণশিক্ষা কেন্দ্রে পরিচ্ছন্নকর্মীদেরকে নিয়ে পরিস্কার করা হয়েছে। স্কুল কলেজের আশপাশে পানি জমে থাকায় (চসিক) পক্ষ থেকে মশা নিধনের ওষুধ ও জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হয়েছে। স্কুল কলেজ শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ক্লাস চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে।

পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মৌলিক রুটিন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, প্রতিদিন পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হবে। সঙ্গে একেকদিন এক একটি শ্রেণির ক্লাস হবে। যেসব স্কুলে শিক্ষার্থী বেশি সেখানে প্রয়োজনে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া যাবে। প্রথম শিফট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে ৩টা ঘণ্টা চলবে। দুপুরে ৩০ মিনিটের বিরতি থাকবে। এরপর ক্লাস শুরু হয়ে বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। আজ চলেছিল তৃতীয় শ্রেণি, পঞ্চম শ্রেণি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিনই ক্লাস শুরুর আগে দশ মিনিট করে করোনা স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করতে হবে। এর আগে ৩০ মিনিট থাকবে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশের জন্য। একসঙ্গে প্রবেশ ও বের হওয়া যাবে না। বুধ ও বৃহস্পতিবার কেবল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাবে। অন্য চার দিন তাদের সঙ্গে আরেকটি শ্রেণির ক্লাস হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার চতুর্থ, রোববার তৃতীয়, সোমবার দ্বিতীয় ও মঙ্গলবার প্রথম শ্রেণির ক্লাস হবে। এই চার শ্রেণির বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান হবে। আর পঞ্চম শ্রেণির সব বিষয়েই পাঠদান চলবে। মাধ্যমিক স্তরের জন্য প্রথমে রুটিন করা হলেও পরে বাতিল করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিজের প্রয়োজনের নিরিখে কর্মপন্থা ঠিক করতে বলে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্র রিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য বা বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য বা বক্তব্য সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.