রোহিঙ্গা সঙ্কট: মিয়ানমার, বাংলাদেশ সফরে ইন্দোনেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ এবং সঙ্কট সমাধানে আলোচনার জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি।

রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মিয়ানমারে এসে পৌঁছান।

আজ সোমবার  মিয়ানমারের নেত্রী অংসান সুচির সঙ্গে ইন্দোনেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় তিনি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে অংসান সুচির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সোমবার সিঙ্গাপুর ভিত্তিক চ্যানেল নিউজ এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

চ্যানেলটি জানায়, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর থেকে এক ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মিয়ানমারের নেত্রী সুচির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানিয়েছেন।

এতে তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে কিভাবে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য করা যায়, সে বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।

চ্যানেল নিউজ এশিয়া জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে ইন্দোনেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর করার পূর্ব নির্ধারিত সফরসূচি রয়েছে।

এদিকে ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, রেতনো মারসুদি মিয়ানমার থেকে মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছবেন। এরপর বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

এছাড়া দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকার যেসব জায়গায় রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে সেখানেও তিনি সফর করবেন বলে জানায় সূত্র।

চ্যানেল নিউজ এশিয়া জানায়, ইন্দোনেশীয়রা তাদের সরকারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

সোমবার রাজধানী জাকার্তায় মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে কয়েক ডজন ইন্দোনেশীয় বিক্ষোভ করে। তারা মিয়ানমারের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়াকে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানায়।

সাহায্য সংস্থাগুলোর ধারণা, রাখাইন রাজ্যে গত সপ্তাহ থেকে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার মানুষদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২২ কোটি জনসংখ্যার এ দেশটি মিয়ানমার সরকারকে রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষার জন্য সক্রিয়ভাবে অনুদান সাহায্য করে থাকে।

শনিবার জাকার্তায় মিয়ানমার দূতাবাসের কাছে একদল অ্যাক্টিভিস্ট মিয়ানমারের নেত্রী নোবেল জয়ী অংসান সুচির পদক কেড়ে নেয়ার দাবি জানান।

এদিন দিবাগত রাতে মিয়ানমার দূতাবাসে একটি পেট্রল বোমা ছুড়ে মারা হয়। এতে দূতাবাসের দ্বিতীয় তলায় আগুন ধরে যায়। তবে টহল পুলিশ তা দেখতে পেলে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

রাতের এ ঘটনার পর রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদিকে মিয়ানমারে পাঠানোর কথা জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.