রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন সাড়ে ৪ লাখ ছাড়িয়ে

ওয়ান নিউজ ডেক্স:  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপর্যন্ত সাড়ে ৪ লাখের বেশি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয়েছে। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করেছে একাধিক মেডিকেল টিম। নিরাপত্তা ও ত্রাণ তৎপরতায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭টি ক্যাম্পের মাধ্যমে নিবন্ধন কাজ  বাস্তবায়ন করছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। ১১ সেপ্টেম্বের থেকে শুরু হয়ে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৮ শত ১৮ জন রোহিঙ্গা নাগরিকের নিবন্ধন করা হয়েছে।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) রিপোর্ট মোতাবেক ২৫ আগস্টের পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিক সংখ্যা ৬ লাখ ২৬ হাজার। অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা বাড়ছে।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমার নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দানের অংশ হিসেবে সেবা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ৩৬ টি মেডিকেল টিম ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা।
মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার অস্থায়ী ঘর নির্মাণের বিপরীতে ১ লাখ ৩৪ হাজার ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে নতুন এলাকায় আশ্রয় প্রদান করা হয়েছে।
নতুন ক্যাম্প এলাকায় অগ্নি নির্বাপন কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে উখিয়ার রাবার বাগান এলাকায় ১টি এবং টেকনাফের উনচিপ্রাং এলাকায় ১টি অস্থায়ী ফায়ার সার্ভিস ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মিয়ানমার নাগরিকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে উখিয়া, টেকনাফ ও রামুর ১১টি স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার থেকে উদ্ধারকৃত ৩২ হাজার ৮ শত ১৮ জন ও অন্যান্য জেলা হতে উদ্ধারকৃত ৭ শত ৯ জনকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বান্দরবানে থাকা ১৭ হাজার মিয়ানমার নাগরিকের মধ্যে ৭ হাজার জনকে উখিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ১০ হাজার জনের স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক বাস্তবায়িত নতুন ক্যাম্প এলাকায় ১৭ কি.মি. নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের বিপরীতে ৯ কি.মি. লাইন সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় ৪০ টি নিরাপত্তা বাতি বসানো হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৯৯ টি বাতি সংবলিত ৩৩ টি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। আরো ১৭ টি প্যানেল স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নতুন ক্যাম্প এলাকায় এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়িত ২৯ কি.মি. সড়কের মধ্যে ১০ টি সড়কের শতকরা ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক আজ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩ শত ৭৩ জন এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ২৬ হাজার মিয়ানমার নাগরিক অবস্থান নিয়েছে। অনুপ্রবেশকারী এসব নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদান ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
গত ২৫ আগস্টের পর থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। সীমান্তবর্তী স্থল ও নদীপথ এলাকায় নিরাপত্তা বিধানের জন্য বিজিবি ও কোস্টগার্ড কাজ করছে। টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও সদর উপজেলাসহ ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা হচ্ছে।

Comments are closed.