রেজিস্ট্রেশনের পর রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় রাখা হবে : মায়া চৌধুরী

ওয়ান নিউজঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করা হবে। একাজে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা থাকবে। পরে তাদের সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

আজ শনিবার কক্সবাজারের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু, আব্দুর রহমান এমপি, আশিকুর রহমান এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোঃ শাহ্ কামাল এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয়দান সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে। এতো বিপুল সংখ্যক বিদেশী নাগরিকের আশ্রয়দান, বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হলেও, এ মানবিক সংকটের সময়ে রোহিঙ্গাদের সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব, সব ধরনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশসহ সবার সাথে সুসম্পর্কে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আলাপ-আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে, অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ সংকটের সমাধান সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিয়ানমার অতি দ্রুতই তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নিবে।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে মিয়ানমারের এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। পূর্বে আসা এসব নাগরিকরা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।

মায়া চৌধুরী আরো বলেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, নদী ও সাগর পথে বাংলাদেশে আসছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার তাদের আসার হার অনেক বেশি।

তিনি বলেন, নারী, শিশু ও অসহায় অনুপ্রবেশকারীদের করুণ চিত্র বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী এ নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন। অসহায় এ মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা মানবিক সংকট তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সম্প্রদাকে এ অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ লোকগুলোকে ফিরিয়ে নিতে তারা যেন মিয়ানমারকে চাপ দেয়।

শরণার্থীরা মাদক বা অন্য কোনো অবৈধ কিছু নিয়ে যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.