যশোরে নোভা মেডিকেলের ওয়াশরুমে রোগীনীকে ধর্ষণের চেষ্টা

ইয়ানূর রহমান : যশোরে নোভা মেডিকেল সেন্টারের ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে অসুস্থ এক স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সাথে জড়িত ওই স্বাস্থ্য প্রতিষ্টানের মালিক মাহমুদুল হাসান পান্নুকে (২৭)ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি শহরতলীর শেখহাটি বাবলাতলা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে পূর্ববারান্দীপাড়া সরদারপাড়ায় ব্যাংকার শুকুর আলীর ভাড়াটিয়া। এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি মামলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মণিরামপুরের এক অসুস্থ স্কুলশিক্ষিকা (৪৫) তার স্বামীকে নিয়ে শুক্রবার সকালে ডাক্তার দেখানোর জন্য যশোর শহরের কিংস হসপিটালে ডাঃ এন কে আলমের কাছে আসেন। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি আল্ট্রাসনো করার জন্য শহরের মাইকপট্টি এলাকার নোভা মেডিকেল সেন্টারে যান। দুপুর পৌনে একটার দিকে তিনি পরীক্ষা শেষে ওই সেন্টারের নিচতলায় ওয়াশরুমে যান প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার সময় দরজার কাছে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ওই ব্যক্তি চাকুর মুখে জোর করে ফের ওয়াশরুমের মধ্যে ঢোকান ওই রোগিণীকে। এরপর তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত দেন এবং জোর করে কাপড় খুলে শুইয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। সে সময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আক্রান্ত রোগিণীর চিৎকারে স্বামী ছুটে এসে ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে তাকে মুক্ত করেন।

চিৎকার চেচামেচি শুনে মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজার এগিয়ে এসে পান্নুকে তৃতীয়তলার একটি রুমে নিয়ে যান। এর পর তারা পান্নুর কাছে ঘটনা জানতে চান। কিন্তু পান্নু অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। নোভা কর্তৃপক্ষ এ সময় ঘটনা মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আক্রান্ত নারী ও তার স্বামী মীমাংসায় রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা পুলিশে সংবাদ দেন। কোতয়ালী থানার এসআই সাহাবুল আলম এসে পান্নুকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এসআই সাহাবুল আলম জানান, আটক পান্নু নোভা মেডিকেল সেন্টারের মালিক ফারুক হোসেনের গাড়িচালক। তার বিরুদ্ধে ওই নারী থানায় মামলা করেছেন। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নোভা মেডিকেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদুর রহমান পান্নু এর আগেও হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু আক্রান্তরা সম্মানের ভয়ে অভিযোগ করেননি। ফলে পার পেয়ে গেছেন পান্নু। কিন্তু শুক্রবার আক্রান্ত নারী শিক্ষিত সচেতন হওয়ায় তিনি পুলিশে অভিযোগ করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.