মিয়ানমারের উপরে নিষেধাজ্ঞার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর দমন অভিযান চালানোয় দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স’এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তা করতে চায় বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। যে বা যারাই এই ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে জড়িত হোক না কেন বিচারের আওতায় তাদের আনা প্রয়োজন বলেও ওয়াশিংটন মনে করে।

গত আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরুর পর বিপুল সংখ্যক মানুষ এলাকা ছেড়েছে। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে এরই মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যে ঢল এখনও অব্যাহত আছে।

গেল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানান, রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিধন অভিযানের পেছনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জড়িত। তাই দেশটির সেনাবাহিনী বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চায় মার্কিন সরকার।

অবশ্য টিলারসন এটাও বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপর কোনো ধরনের পদক্ষেপ উচ্ছেদকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পথ রুদ্ধ করতে পারে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এমন এক সময়ে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কথা বলছে যখন আগামী মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অঞ্চল সফর করবেন। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিতব্য আশিয়ানের বৈঠকে মিয়ানমারেরও যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর দমন অভিযান চালানোর মাস খানেক পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে জোড়ালো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। ফলে রাখাইন সংকট সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন উদাসিন বলেও বিশ্ব মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

অবশ্য মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সোমবার জানায়, মার্কিন আইন এবং আন্তর্জাতিক বিধি মেনে মিয়ানমারের উপর শক্ত নিষেধাজ্ঞার উপায় খুঁজে বের করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাখাইনে কর্মরত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্তমান এবং সাবেক সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এই বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বার্মার ঊর্ধ্বতন সদস্যদের মার্কিন খরচে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ দলের প্রবেশের অনুমতির বিষয়েও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রও চায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টিতে রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দিক মিয়ানমার সরকার।

Comments are closed.