মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনে আগামীতে কারা পাচ্ছেন নৌকা-ধানের শীষ এর টিকেট

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
মহেশখালি-কুতুবদিয়ার উন্নয়নে আগামী ২০১৯সালের জাতীয় নির্বাচনে দুই বড় দলের নড়াচড়া শুরু হতেই জনগণ ও ভাবতে শুরু করেছে কে হবেন মহেশখালি উন্নয়নের ত্রানকর্তা। কারা পাচ্ছেন নির্বাচনী টিকেট। ২০১৪সালের ৫ই জানুয়ারী মহেশখালি কুতুবদিয়া-আসনে অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত টিকেট পেয়েছিলেন বর্তমান এমপি আশেক উল্লাহ রফিক। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ আসনের মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশের পর চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় কাটে নেতা-কর্মীদের। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রধান দুই দলের সাম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে নেমেছেন। অধিকাংশ আসনে উভয় দলের একাধিক প্রার্থী এখন গণসংযোগে ব্যস্ত। তবে তাদের কেউই এখন পর্যন্ত দলের হাই কমান্ডের সবুজ সংকেত পাননি বলে জানান কেন্দ্রীয় এক সিনিয়র নেতা। কিন্তু ভোটারদের মন জয় করার জন্য তারা বসে নেই। পুর্বে কোনদিন এলাকায় সময় না দিলেও বর্তমানে সমাবেশ, ব্যানার, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন তারা। দলের মনোনয়ন লাভ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতাদের কাছেও অনেকে ধরনা দিচ্ছেন। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার-প্রচারণা গতি পাচ্ছে মহেশখালিতে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিএনপি সমর্থিক দুইবারের সাংসদ আলহাজ্ব আলমগীর মুহাম্মদ মাহাফুজ উল্লাহ ফরিদ বিগত কয়েক বছরে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় সময় সক্রিয় ছিলেন তার একাংশের নেতা কর্মীদের উজ্জবিত করার নানা কর্মসূচিতে। যদিও উপজেলা বিএনপির আরেকটি অংশ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বক্কর ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এপিএস সালা উদ্দিন আহমদের মতাদর্শে বিবৃতি দিয়ে আলোচনায় ছিলেন। তবে আগামীতে জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ গ্রহন করে তখন কে হচ্ছেন বিএনপি মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এমনটি এখনো নিশ্চিত নয়। দলের একাধিক তথ্যসুত্রে জানা যায়,আগামীতে প্রার্থী হবার জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে যাবেন সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদ,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বক্কর,এডভোকেট নুরুল আলম,কুতুবদিয়ার এটিএম নুরুল বশর সহ অনেকে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বিধি মতে পর পর দুবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে, যে কোন দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। সে হিসাবে বিএনপি যখন বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে । সেহেতু জাতীয় নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসবে এমনটি ধারনা করেন রাজনীতির বিজ্ঞ জনেরা। অন্যদিকে সরকারের সাথে থেকে যদি আবারো জাতীয় পার্টি জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে জোট বেধে। তবে কক্সবাজার ১,২,৩,৪ নং সংসদীয় আসনে দুটি আসন হয়তো মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ছেড়ে দিতে হতে পারে। এমন একটি হিসাবে মহেশখালি কুতুবদিয়া আসন ও চকরিয়া পেকুয়া আসন হয়তো জাতীয় পার্টির ঝুলিতে যাবে। যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, গতবারে মহেশখালি কুতুবদিয়া আসন অনেকটা নিশ্চিত ছিলো জাতীয়পার্টির জেলা সভাপতি আলহাজ্ব কবির আহমদ সওদাগরের। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক কুটকৌশলে আসনটি ছেড়ে দিতে হয় নৌকা সমর্থিত এমপিকে। এবারে কক্সবাজার ২ আসনে ব্যাপক পরিবর্তন ও নানা নাটকীয়তা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি দলীয় মনোনয়নে সরকারেরর হাইকমান্ড বার বার ঘোষনা দিচ্ছেন এমন কোন প্রার্থীকে এবারে মনোনয়ন দেবেনা যারা মাঠে জনপ্রিয় বা সক্রিয় নন। যদিও সম্ভাব্য ধারনা করা হচ্ছে মহেশখালি কুতুবদিয়া আসনে এবারেও নৌকার টিকেট চাইতে পারেন বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক,ডঃ আনচারুল করিম,এড সিরাজুল মোস্তফা,ডঃ শাহদাত হোসেন,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হাসান,মাতারবাড়ির নুরুল আবছার এমন একটি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে। অন্যদিকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় যারাই আসুক না কেনো। কেন্দ্রীয় সুত্রে জানা যায়,এবারে সরকার দলীয় আসন হতে নির্বাচনে ভরাডুবি যাতে না হয়,সেভাবে বিতর্কহীন মাঠে জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের সক্রিয় কোন নেতাকে মনোনয়ন দেবেন। ইতিমধ্যে টেকনাফ আসনের বর্তমান এমপি নানা বিতর্কে জড়ানোর কারনে মনোনয়ন পেতে বেগ পেতে পারেন বলে জানা যায় একটি বিশেষ সুত্রে। যদিও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। দলীয় প্রধান এই বোর্ডের সভাপতি। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত কার্যত দলীয় প্রধানের উপর নির্ভরশীল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আগ্রহী প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। পরে পার্লামেন্টারি বোর্ড তাদের সাক্ষাতকার নিয়ে থাকে। এরপর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়; কিন্তু নির্বাচনের সময় এগিয়ে এলেও দলীয় মনোনয়ন কোন প্রার্থীর ভাগ্যে জুটবে তা উভয় দলের নেতা-কর্মী, এলাকার ভোটার ও প্রার্থীদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউই বসে নেই মহেশখালিতে,সবাই ভোটার তুষ্টিতে ব্যস্ত এখন মাঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, ‘নির্বাচন আসলেই এমপি হতে আগ্রহী লোকজনের তৎপরতা বেড়ে যায়। এবারও তারা মনোনয়ন পেতে দলের প্রথম সারির নেতাদের কাছে ধর্ণা দেয়া শুরু করেছেন। দলের প্রভাবশালী নেতাদের ‘গুডবুকে’ থেকে এমপি পদের টিকিট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেকেই।’ আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপিদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশিই আগামীতে মনোনয়ন পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে পৌঁছেছে। এছাড়া সম্প্রতি শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের বৈঠকে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা অনেক মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি আসনে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চাচ্ছেন তৃণমূল নেতাদের কাছে।
সেই হিসেবে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ প্রায় ৯০০ প্রার্থী বাছাই করছে। সূত্র জানায়, তৃণমূলের মতামত নেয়ার পর বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত জরিপ এবং দলের পক্ষ থেকে পরিচালিত জরিপের ফল মূল্যায়ন করে প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেয়া হবে। এবং নভেম্বরের শুরুতেই প্রার্থীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে যাবে বলে দলটির নেতারা আশা করছেন। দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও চলছে জোর গ্রুপিং-লবিং। এলাকায় তারাও নির্বাচনের আগাম প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, যেসব নেতার কারণে বিগত সময়গুলোতে দল ও সরকার বিব্রত হয়েছে, এবারের নির্বাচনে তাদের মনোনয়নের বিষয়ে নতুন করে ভাবা হবে। সেক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদেরই বেশি প্রাধান্য দেবে দলের হাইকমান্ড। ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, এমন নেতাদের একাধিক প্রাথমিক তালিকাও ইতিমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে করা হয়েছে। যা বর্তমানে লন্ডনে দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যাচাই-বাছাই করছেন। মনোনয়নের সবুজ সংকেত পেতে অনেকে লন্ডন ছুটে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতেও প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া অভিন্ন হলেও এই দলেও দলীয় প্রধান ও তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপরই প্রধানত নির্ভর করে- কে মনোনয়ন পাবেন। এভাবে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সংসদের ৩শ আসনেই বড় দুই দলের একাধিক প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক টানাপড়নের মধ্যেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের উৎসাহে ভাটা নেই। তবে তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে সংশয় কেননা পুর্বের রাজনীতি আর বর্তমান রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য দেখছেন তারা, সুতরাং মনোনয়ন সোনার হরিণে পরিণত। এবার মনোনয়ন নিয়ে মহেশখালি কুতুবদিয়ার জনগণও নানা হিসাব কষতে শুরু করেছে বলে জানা যায়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.