মহারাষ্ট্রে বন্যায় ভূমিধসে ৩৬ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ:
ভারতের মহারাষ্ট্রে ভারি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে রাজ্যটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এবং শত শত গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৩ জুলাই) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইন্ডিয়া টুডে এমন খবর দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়গড় জেলার পাশাপাশি আরও তিনটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। কর্মকর্তারা বলেন, একটি স্থান থেকে ৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরেক জায়গা থেকে চারটি। ভূমিধসের কারণে ৩০ জনের বেশি আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্নাটকের বেলগুয়াম জেলার সড়ক বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় মুম্বাই-বেঙ্গালুরু মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের কয়েকটি জেলায় অব্যাহত বৃষ্টিতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কোনকান অঞ্চলে ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলাবদ্ধ রাস্তায় নিমজ্জিত গাড়ি দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি ট্রেন সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির ন্যাশনাল ডিজ্যাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) ৯টি উদ্ধার টিম মোতায়েন করেছে। যার মধ্যে চারটি মুম্বাইয়ে, একটি করে থানে ও ফালগার জেলায়। আরেকটি টিমকে চিপলুনে মোতায়েন করা হচ্ছে।
রাজ্যটিতে গত চার দশকের মধ্যে চলতি জুলাইয়ের মতো এত বৃষ্টিপাত কখনোই রেকর্ড হয়নি। সেখানকার বন্যা ও ভূমিধসে আটকা পড়া হাজারো মানুষকে উদ্ধারে সরকার হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।
উদ্ধারকর্মীদের নজরে আসতে আটকা পড়াদের বাড়ির ছাদ বা কাছাকাছি উঁচু কোথাও আশ্রয় নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে মুম্বাই-গোয়া জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ের কয়েকটি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ভূমিধসে অন্তত ২৫ জন মারা গেছে। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় আগামী কয়েকদিনও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ থেকে এমন পূর্বাভাস দিয়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।
ভারতের মধ্যে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যটিকে এখন বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধসের দুর্যোগও সামাল দিতে হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.