ভারত ও নেপালে ভয়াবহ বন্যা, ১০০ জনের বেশি মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ:
ভারত ও নেপালে প্রবল বর্ষণ, বন্যা আর ভূমিধসে ১০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এছাড়া রাস্তাঘাট ও অনেক বাড়িঘর ভেসে গেছে। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২০ অক্টোবর) ভারতের উত্তরে উত্তরাখণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন।

অন্যদিকে দেশটির কেরালা রাজ্যে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই ভাইজায়ান এ তথ্য জানিয়েছিলেন।

এদিকে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্তৃপক্ষ হামকালা পান্ডে বলেছেন, নেপালে গত তিনদিনে ২১ জন বন্যা ও ভূমিধসে মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪৩ জন।

তিনি বলেন, এখনো অনেক জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে। আমরা হতাহতের তথ্য-উপাত্ত এখনো সংগ্রহ করছি। এই সংখ্যা বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কেরালায় বন্যার উপচে পড়া পানি কমাতে খুলে দেওয়া হয় এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্লুইস গেট ইদ্দুকি। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপদসীমার উপর নিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাঁধ খুলে দেওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে আশপাশের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের। এতে করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডে বন্যায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছেই। সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজ্যটির নাইনিতাল জেলায়। মঙ্গলবার দিনভর বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালায় বিমান বাহিনীর সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী।

উত্তরাখণ্ড ও কেরালায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করতে নির্দেশনা দেন তিনি।

উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি দিল্লিসহ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের উত্তরাখণ্ডে বন্যায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৭০০ জন মারা গিয়েছিল।

আবহাওয়াবিদরা এখনও সতর্কতা জারি রেখেছে। কেরালায় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বন্যায় ২০১৮ সালে কেরালার উপকূলীয় এলাকায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ১০০ বছরের মধ্যে ওই বন্যাকে রাজ্যটির ভয়াবহ বন্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.