বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী দেখে আমি অবিভূত

আমি এতদিন বাইর থেকে বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমীকে দেখেছি। শুনেছি অনেক গুণ কীর্তন। প্রকৃতপক্ষে ভেতরের অবস্থা জানতাম না। তবে, স্কুলের জন্য মনটা ব্যাকুল ছিল। বিদায় অনুষ্ঠানের কারণে সুযোগ হলো স্কুলে আসার। আমি হারানো হয়স ফিরে পেলে বায়তুশ শরফের ছাত্র হতাম। কিন্তু সে সুযোগ তো নেই। এরপরও প্রতিষ্ঠানটির পাশে আমি আজীবন থাকব।
বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত সভায় কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এসব কথা বলেন।
রবিবার (২৯ জানুয়ারী) স্কুল প্রাঙ্গনে সভায় এমপি কমল বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক আলহাজ্ব এমএম সিরাজুল ইসলামের প্রশংসা করে বলেন, স্যার আমার বাবার বন্ধু। আমি স্যারের ছেলের বন্ধু। স্যারের মহৎ গুনেই বায়তুশ শরফ আজকের এই অবস্থানে।
৩৫০০ শিক্ষার্থী ও বিপুল সংখ্যক অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে এমপি কমল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন কারাজীবন থেকে শুরু করে তার বর্ণাঢ্য জীবনের সুদীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন। তার ছন্দময় এ নান্দনিক বক্তব্যে শিক্ষর্থীরা বিমোহিত হয়ে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবন করেন।
মহান জাতীয় সংসদের শ্রেষ্ট বক্তা এমপি কমল বিদায়ীদের লক্ষ্য করে বলেন, পরীক্ষার মূল্যায়ন হয় ফলাফলের মাধ্যমে। একটি ভাল ফলাফল একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চতর পর্যায়ে একটি ভাল প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে। যার প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে সর্বত্র প্রতিফলিত হয়।
একাডেমীর অনুষ্ঠানের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, অবকাঠামো, শৃংখলা ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অনন্য মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখবে। জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বাধিক অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক একটি মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে শিক্ষাবিদ এম.এম সিরাজুল ইসলামের বিশেষ অবদানের কথা স্বীকার করেন। একাডেমীর সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঘোষণা পূর্বক বিদ্যালয়ের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদান সহ ২০টি ল্যাপটপ ও ১০টি ডেস্কটপ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উপস্থিত সকল শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কক্সবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে বলেছেন, পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ পাওয়া ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া বড় কথা নয়, একজন যোগ্য নাগরিক হয়ে নিজেকে আলোকিত মানুষ হিসাবে গড়ে তোলায় আসল কাজ।
বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব ইউছুফ, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক এডভোকেট তোফায়েল আহমদ, দৈনিক হিমছড়ি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার কক্সবাজার ব্যুরো চীফ শামসুল হক সারেক, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার কক্সবাজার অফিস প্রধান আব্দুল কুদ্দুস রানা, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোছাইন চৌধুরী, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বায়তুশ শরফ হাসপাতালের যুগ্ম-সম্পাদক এস.এম কামাল উদ্দীন, সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ফরিদ আহমদ, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছৈয়দ করিম।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক ও একাডেমীর পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি শিক্ষাবিদ এম.এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী একটি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে অত্র প্রতিষ্ঠানকে একটি বিজ্ঞান বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচেছ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছৈয়দ করিম। শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তৈয়ব, সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম ও নাজমা বেগম। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ১০ম শ্রেণির ছাত্রী নাসরিন জামান মুক্তা ও পরীক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শিহাব মাহমুদ আকিব।
১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফেজ ইব্রাহীমের কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীর পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন, ইরফান হায়দার আবির । পরীক্ষার্থীদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন ১০ম শ্রেণির ছাত্রী জুবাইদা তাবাচ্ছুম নিশি । শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সফলতা ও কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন একাডেমীর সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা সফিউল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন শিক্ষক নিজামুল বাহার, ইমতিয়াজ হাসান ও শিরিন ইসলাম।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.