বর্ষার আগেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ভাঙ্গন

মোজাম্মেল হক, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী):
দেশের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট। এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটের ৭ টি ফেরি ঘাট ও ১টি লঞ্চ ঘাট রয়েছে। সেখানে বর্ষা আসার আগেই নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে ফেরিতে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে প্রতিদিন।

এদিকে দৌলতদিয়ার ৪ ও ৫ নং ফেরি ঘাটও বালুভর্তি জিও ব্যাগের বস্তাগুলাে নদীতে বিলিন হচ্ছে। চলতি বর্ষায় ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে সব গুলাে ফেরি ঘাট। গত দুই বছর নদী ভাঙ্গনে এখানে অবস্থিত ৭টি ফেরি ঘাটের মধ্যে ৩,৪,৫ তিন টি ফেরি ঘাট সচল রয়েছে। বাকী ৪ টি ফেরি ঘাট বন্ধ রয়েছে। সেই ৪ টি ফেরি ঘাট আজও চালু করতে পারনি বিআউডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ।বর্তমান দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট গুলাে দিয়ে যানবাহন পারাপার চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, দ্রুত ভাঙ্গন অংশে পদক্ষেপ না নিলে ফেরি ঘাট সংকটে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হবে চরমে।
প্রতিদিনই পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও গত ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার পর স্রোত ও ঢেউ থাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে লঞ্চ ঘাটের সামনে এবং ৩,৬,৭ নং ফেরী ঘাটের পাশে।দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট ভাঙ্গনে নদীতে বিলিন হচ্ছে বালু ভর্তি জিও ব্যাগের বস্তা। এতে ঘাট গুলাে বিলিন হওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিটি ঘাটের দুই পাশে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় সংকুচিত হচ্ছে ঘাট এলাকা। অথচ আজ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ফেরি ঘাট গুলাে ভাঙ্গনের কবলে পরলেও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এখনও ভাঙ্গন ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ নেয়নি । ফেরি ঘাট গুলাের দুই পাশে ভাংতে ভাংতে প্রধান সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে ফেরি ঘাট। ঘাটের পটুন সংলগ্ন স্থানে ভাঙ্গনে যানবাহন ওঠানামা করতে সমস্যায় পড়েছে চালকরা।

গাড়ি চালকদের বক্তব্য হলো, দৌলতদিয়া আজ কয়েকদিন ধরে ফেরি ঘাটের আশ পাশ ও ঘাট এলাকায় বর্ষার আসার আগেই ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় লঞ্চ ঘাট সহ ৭টি ফেরি ঘাট হুমকিতে পড়েছে। প্রতিদিনই ভাংছে ফেরি ঘাট এলাকার চার পাশ। আজ বেশ কয়েক দিন হলেও ভাঙ্গন ঠেকাতে কােন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ । দ্রুত ভাঙ্গন স্থানে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সব গুলাে ঘাট বিলিন হয়ে যাবে। দৌলতদিয়ায়র ৩ টি ফেরি ঘাট দুই বছর ধরে বিলীন হলেও আজও এ ঘাট গুলাে নির্মান করতে পারনি কর্তৃপক্ষ । এতে প্রতিদিনই যানবাহন পারাপারে ব্যাহত হচ্ছে এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়লে বাকি ঘাট গুলাে হুমকির মুখে পরার আশঙ্কা করছেন।

গােয়ালদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মােঃ মােস্তফা মুন্সী বলেন, দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানা হয়েছে। নদী ভাঙ্গ ঠেকাতে জরুরী ভিত্তিতে নদী শাসনের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদে প্রতি অনুরাধ জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন পাঠান জানান, দৌলতদিয়া পাটুরিয়ার নৌরুটে ভাঙ্গন অংশের নিচে জিও ব্যাগ বস্তা রয়েছে এতে পলি গুলাে ভেঙ্গে বস্তার উপরে পড়েছে। আসলে এটা নদী ভাঙ্গন না। দৌলতদিয়ায় ফেরি ঘাটের কাজ চলমান রয়েছে, স্থায়ী কাজের জন্য পানি উন্নয়ন বাের্ড ও বুয়েটের অনুমােদন পেয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে কর্তৃপক্ষকে বর্তমান ভাঙ্গন অবস্থা জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। ভাঙ্গনস্থানে বস্তা ফেলার কাজ করা হবে বলে জানান।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.